

চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে। এবার পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গত বছর পরীক্ষার্থী ছিল ১৯ লাখ ২৮ হাজার ৯৭০ জন। এবার কমেছে ৭১ হাজার ৬২৬ জন।
শিক্ষা বোর্ডগুলোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষার্থী ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে দাখিল পরীক্ষার্থী ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন। অর্থাৎ অংশগ্রহণে প্রায় সমতা লক্ষ করা যাচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী রয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৬৫০ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯৩৯ জন এবং ছাত্রী ১ লাখ ৯৬ হাজার ৭১১ জন। রাজধানীকেন্দ্রিক এই বোর্ডে কেন্দ্রের সংখ্যা ৫১০টি এবং অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ৩ হাজার ৪৪১টি।
অন্যদিকে সবচেয়ে কম পরীক্ষার্থী বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে ৮১ হাজার ৮৩১ জন। এখানে ছাত্র ৩৭ হাজার ৯৪৪ জন এবং ছাত্রী ৪৩ হাজার ৮৮৭ জন। কেন্দ্র রয়েছে ২১৬টি এবং প্রতিষ্ঠান ১ হাজার ৫১৫টি। এ ছাড়া রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, চট্টগ্রাম, সিলেট, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ বোর্ডেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে, যেখানে অনেক বোর্ডেই ছাত্রীদের অংশগ্রহণ তুলনামূলক বেশি। মাদ্রাসা
শিক্ষা বোর্ডে এবার দাখিল পরীক্ষার্থী বেড়েছে। এ বোর্ডে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন, যা গত বছরের তুলনায় ৯ হাজার ৫৬০ জন বেশি। অন্যদিকে কারিগরি বোর্ডে অংশ নিচ্ছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী, যেখানে ছাত্রের সংখ্যাই বেশি।
জানা গেছে, আগামীকাল থেকে প্রতিদিন সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হবে। শেষ হবে ২০ মে। ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ৭ থেকে ১৪ জুন এবং ১৮ জুনের মধ্যে সব নম্বরপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
পরীক্ষা ঘিরে শিক্ষার্থীদের জন্য জারি করা হয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কক্ষে আসন গ্রহণ করতে হবে। বহুনির্বাচনী ও সৃজনশীল অংশের মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না। এ ছাড়া নির্ধারিত মডেলের সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে যানজট ও জনদুর্ভোগ কমাতে পরীক্ষার্থীদের সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে কেন্দ্রে প্রবেশের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চলমান তাপপ্রবাহের কথা বিবেচনায় রেখে প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপদ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।