বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৬ অপরাহ্ন

জামিন পেলেও মুক্তি পাননি সেই যুব মহিলা লীগ নেত্রী, নেপথ্যে কী

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১ বার

রাজধানীর তেজগাঁও থানায় করা বিস্ফোরক ও সহিংসতার মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়া এজাহারভুক্ত আসামি শিল্পী বেগমের জামিন মিললেও এখনো মুক্তি মেলেনি। জামিন সংক্রান্ত যেসব প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে বিচারকের স্বাক্ষর প্রয়োজন তা বাকি থাকায় তার কারামুক্তি প্রক্রিয়া এখনও সম্পন্ন হয়নি।

ফলে, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত থেকে বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত কারাগারেই থাকতে হয়েছে মা ও দেড় মাসের শিশুকে।

তবে বুধবারে যেকোনো সময় যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগম ও তার দেড় মাসের কন্যাশিশুর মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় পুনর্বিবেচনার আবেদনের শুনানি শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান মানবিক বিবেচনায় ৫ হাজার টাকা মুচলেকায় পুলিশ রিপোর্ট পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করেন।

এ বিষয়ে আসামি শিল্পীর আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি কালবেলাকে বলেন, যেখানে মামলার ঘটনার সঙ্গে আসামি শিল্পীর সম্পৃক্ততাই নেই, শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় তাকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় শিল্পীর বাবা-মায়ের পরিচয় নেই, ঠিকানা নেই। আন্দোলন হয়েছে রাস্তায়। কিন্তু বাড়ি লুটপাট, চুরির মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে শিল্পীকে।

এর আগে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে তাকে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক শেখ নজরুল ইসলাম আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

এ সময় তার আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি জামিন চেয়ে বলেন, তার ১ মাস ১৬ দিনের কন্যা সন্তান রয়েছে। তার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। যে কোনো শর্তে তার জামিন প্রার্থনা করছি। শুনানি শেষে বিকেল ৩টার দিকে আদালত আসামির জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

বিকেল ৩টা ১২ মিনিটে আদালত থেকে বের করা হয়। এ সময় আদালতের চতুর্থ তলায় কাঁদতে থাকেন তিনি। পরে তার কোলে তুলে দেওয়া হয় দেড় মাস বয়সী একটি বাচ্চা। এ সময় আদালতের বারান্দায় রাখা বেঞ্চে বসিয়ে সেই বাচ্চাকে দুধ খাওয়ান ওই মা। পরে ওই বাচ্চাকে কোলে নিয়ে তাকে আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। এ সময় তিনি কাঁদতে থাকেন। যুবলীগ নেত্রী আক্ষেপ করে বলেন, ‘রাজনৈতিক কারণে বাচ্চাসহ কারাগারে যেতে হচ্ছে।’ এরপর মায়ের সঙ্গে শিশুকে প্রিজন ভ্যানে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী মো. তাহমিদ মুবিন রাতুল। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তার সহপাঠীরা তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা চলাকালীন ছাত্রলীগের অসংখ্য নেতাকর্মী তাদের আক্রমণ করেন। পরবর্তীতে আসামি শিল্পীর নির্দেশে ২৩ জুলাই সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় মামলার এজাহারনামীয় আসামিরাসহ আরও অজ্ঞাতপরিচয় ১২০-১৩০ আসামি দেশীয় ধারালো অস্ত্র এবং পিস্তল, বোমা নিয়ে ওই শিক্ষার্থীর বাসায় হামলা চালায়। এতে আসবাব ও ইলেকট্রনিকস জিনিসপত্র ভাঙচুর করে পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করে। তিন লাখ টাকা মূল্যের বাসার বিভিন্ন মালামাল লুটপাট ও চুরি করে নিয়ে যান। ভুক্তভোগীর বাসার সামনে রাস্তার ওপর বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। আসামি শিল্পী ও অন্য আসামিরা হত্যার উদ্দেশ্যে ওই শিক্ষার্থীর পিতা মো. সোহেল রানাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি তেজগাঁও থানায় মামলা করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com