

দাম্পত্য কলহের জেরে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মোসা. আকলিমা বেগমকে হত্যার দায়ে ২৬ বছর পর স্বামী আ. জলিল হাওলাদারের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. জাহিদুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. আবুল কালাম আজাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০০০ সালের ২৬ মে রাজধানীর খিলগাও থানাধীন পূর্ব গোড়ানস্থ ২৫৯/২ নং বাসাতে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মোসা. আকলিমা মৃত অবস্থায় পড়েছিলেন। এসময় ভিকটিম আকলিমার স্বামী আ. জলিল হাওলাদারকে বাসায় না পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ওই বাসার মালিক ও অন্যান্য ভাড়াটিয়াদের জিজ্ঞাসাবাদে এই মামলার বাদী জানতে পারেন, আকলিমা বেগম প্রতিদিন ভোর বেলা পানি নিতে কল ঘরে (পানির হাউজ) আসতো। কিন্তু ওইদিন কল ঘরে তাকে পানি নিতে আসতে না দেখায় বাড়ির মালিক ফজলুল হক তালুকদারের স্ত্রী ও অন্যান্য ভাড়াটিয়া ভিকটিমের রুমে প্রবেশ করে দেখতে পান, ভিকটিম আকলিমা মৃত অবস্থায় খাটের ওপর পড়ে আছে।
এ সময় উপস্থিত লোকজনের কাছে বাদী জানতে পারেন, গত রাতে তার শ্যালিকা আকলিমা বেগমের সঙ্গে তার স্বামী আ. জলিল হাওলাদারের সঙ্গে ঝগড়াঝাটি হয়। রাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত জি. এম বাবুল নামে এক ব্যক্তি আ. জলিল হাওলাদারকে রাস্তায় বিমর্ষ অবস্থায় ঘোরাফেরা করতে দেখেন। ওই বাড়ির মালিক এবং ভাড়াটিয়াদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এবং ভিকটিমের শরীরের আঘাতের চিহ্ন দেখে ধারণা করা হচ্ছে, রাতে যেকোনো সময় দাম্পত্য কলহের কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
ওই ঘটনায় ভিকটিমের দুলাভাই মো. মিন্টু গাজী খিলগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০০১ সালের ১৪ জুন মামলাটি তদন্ত করে খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক মো. তোফাজ্জল হক আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলাটি বিচারকালে ৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।