শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৪৬ অপরাহ্ন

হামের উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৮ বার

বাংলাদেশে হামের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে বলেছে, বাংলাদেশে হামের সংক্রমণ এখন জাতীয় পর্যায়ে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ অবস্থায় পৌঁছেছে। টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি, দ্রুত সংক্রমণ বিস্তার এবং শিশুদের মধ্যে উচ্চ আক্রান্ত ও মৃত্যুহারÑ সব মিলিয়ে পরিস্থিতিকে গুরুতর হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮ জেলায় হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে, যা মোট জেলার প্রায় ৯১ শতাংশ। এটি প্রমাণ করে, রোগটি এখন আর সীমিত কোনো অঞ্চলে নেই, বরং দেশব্যাপী ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা এবং এর আশপাশের ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকাগুলোতে সংক্রমণের হার বেশি দেখা যাচ্ছে। রাজধানীর ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, কামরাঙ্গীরচর, কড়াইল, মিরপুর ও তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ১৯ হাজার ১৬১ জন সন্দেহভাজন হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৯০০-এর বেশি। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৬৬ জনের, যার মৃত্যুহার প্রায় ০.৯ শতাংশ। পরীক্ষাগারে নিশ্চিত রোগীদের মধ্যে মৃত্যুহার ১.১ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে।

এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১২ হাজারের বেশি রোগী এবং চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছে প্রায় ৯ হাজার ৮০০ জন। তবে বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো, আক্রান্তদের বড় অংশই শিশু। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭৯ শতাংশ রোগী পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। এর মধ্যে ৩৩ শতাংশ শিশু ৯ মাসের কম বয়সী, অর্থাৎ

তারা টিকা নেওয়ার বয়সও অতিক্রম করেনি। এ ছাড়া আক্রান্তদের ৬৬ শতাংশ দুই বছরের কম বয়সী শিশু।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আরও জানায়, আক্রান্ত শিশুদের ৮৩ শতাংশই যথাযথ টিকা পায়নি অথবা এক ডোজ টিকা গ্রহণ করেছে। এটি ইঙ্গিত দেয়, দেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) যথেষ্ট কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। ফলে হামের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠেনি বড় একটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে।

সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা বাতাসের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে এটি অন্যদের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে। সাধারণত সংক্রমণের ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দেয়, যার মধ্যে থাকে জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে ফুসকুড়ি। যদিও অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে ওঠে, তবে নিউমোনিয়া, এনসেফালাইটিস এবং ডায়রিয়ার মতো জটিলতা মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ পরিস্থিতি দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য একটি বড় সতর্ক সংকেত। জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘এখনই জরুরি ভিত্তিতে পরিস্থিতিকে স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করতে হবে, না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে পাঁচ বছরের কম বয়সী অপুষ্টিতে ভোগা শিশু এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল। বিশেষ করে ভিটামিন এ ঘাটতি থাকা শিশুদের মধ্যে মৃত্যুঝুঁকি বেশি।

সামগ্রিকভাবে, হামের বর্তমান পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত ও কার্যকর টিকাদান, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ সংকট নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com