শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৪:১০ অপরাহ্ন

রেওয়াজ ভেঙে ভোটের সকালেই বুথ পরিদর্শনে মমতা

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৪ বার

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত পর্যায়ের ভোটগ্রহণের দিন দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে সকালেই বুথ পরিদর্শনে বেরিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার (২৯ এপ্রিল) ভোট শুরুর আগেই তিনি নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন। 

সাধারণত নির্বাচনের দিন সকালের সময়টুকু বাড়িতে কাটালেও এবার তিনি মুখ্যমন্ত্রী পরিচয়ের বাইরে একজন সাধারণ প্রার্থী হিসেবে ভোটার ও দলীয় কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে সরাসরি রাস্তায় নামেন। আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মমতার এই আকস্মিক সক্রিয়তা এবং তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া নজরদারি ভবানীপুরের রাজনৈতিক উত্তাপকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

সকালে কালীঘাটের বাসভবন থেকে বেরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমে চেতলা এলাকায় যান এবং সেখানে তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে দেখা করেন। গত সোমবার রাতে ফিরহাদ হাকিমের বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ পর্যবেক্ষকদের আকস্মিক তল্লাশি এবং অভিযান নিয়ে মমতা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, মাঝরাতে দরজা ধাক্কিয়ে অহেতুক আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা বাড়ির নারীদের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর। নির্বাচনে প্রভাব খাটানোর লক্ষ্যেই কেন্দ্রীয় সংস্থাকে এভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। উল্লেখ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সচরাচর দুপুরের পর মিত্র ইনস্টিটিউশনে নিজের ভোট দিতে যান, তবে এবার পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় তিনি সকাল থেকেই রণক্ষেত্রে রয়েছেন।the financial express

অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীও সকাল থেকে বিভিন্ন বুথ পরিদর্শন করছেন এবং মমতার এই আগাম তৎপরতাকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। শুভেন্দু মন্তব্য করেন যে, ‘ঠেলায় না পড়লে বিড়াল গাছে ওঠে না’। তার দাবি অনুযায়ী, পরাজয়ের প্রবল আশঙ্কা এবং নিজের পায়ের তলার মাটি সরে যাওয়ার কারণেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার রেওয়াজ ভেঙে সাতসকালে পথে নেমেছেন।

শুভেন্দুর মতে, ভোটারদের ওপর নৈতিক চাপ সৃষ্টি করতেই তৃণমূল নেত্রী এ ধরনের কৌশল গ্রহণ করেছেন। তবে শুভেন্দু নিজেও প্রতিটি বুথে কড়া নজরদারি রাখছেন যাতে কোনো ধরনের কারচুপি না হয়।

ভবানীপুর কেন্দ্রে দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর এই সরাসরি সংঘাত এবং পাল্টা পাল্টি আক্রমণ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন ভোটারদের আত্মবিশ্বাস জোগাতে সচেষ্ট, অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারীও জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।

এই কেন্দ্রে শেষ পর্যন্ত কার পাল্লা ভারী থাকে এবং সাধারণ মানুষের রায় কোন দিকে যায়, তা দেখার জন্য ৪ মে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। পুরো রাজ্য যখন নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে তাকিয়ে, তখন ভবানীপুরের এই মর্যাদার লড়াই বর্তমান বিধানসভা নির্বাচনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com