শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০৩:২৩ পূর্বাহ্ন

‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২ মে, ২০২৬
  • ১৯ বার

সিলেটে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’র উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে প্রতিভা অন্বেষণ এ কর্মসূচিউদ্বোধন করেন তিনি। সারাদেশে শিশু-কিশোরদের মধ্য থেকে প্রতিভা অন্বেষণে এই প্রতিযোগিতা শুরু হলো। এর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ গড়ে তুলতে চায় সরকার। এবারই প্রথম রাজধানীর বাইরে সিলেট থেকে এ ধরনের বড় আয়োজনের সূচনা করা হল।

স্বাধীন বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণমূলক অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁঁড়ি’ শুরু হয়েছিল ১৯৭৬ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে। এবার তাতে যোগ হল খেলাধুলা। ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, ব্যাডমিন্টন, দাবা, কারাতে এবং সাঁতার, জনপ্রিয় আটটি ইভেন্ট থাকছে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সারা দেশে একযোগে শুরু হচ্ছে এই কর্মসূচি। খেলোয়াড় বাছাই হবে উপজেলা, জেলা, অঞ্চল ও জাতীয় পর্যায়ে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে সমবেত শত শত শিশু-কিশোরের উদ্দেশ্যে দীর্ঘ বক্তব্যে বদলে তাদের সঙ্গে সরাসরি গল্পে মেতে উঠেন প্রধানমন্ত্রী। গ্যালারিভর্তি শিশু কিশোরদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আজকের অনুষ্ঠানের চিফ গেস্ট কারা জানো? তোমরা এই গ্যালারিতে যারা বসে আছো, তোমরাই আজকের প্রধান অতিথি, তোমরাই হচ্ছো বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। প্রায় সাড়ে চার বছর আগে লন্ডনে একটি রেস্টুরেন্টে বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সাথে আলাপাকালে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের পরিকল্পনা করা হয় বলে জানান তিনি।

শিশুদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘তোমরা স্পোর্টসের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশকে পৃথিবীর সামনে তুলে ধরবে। তোমরা প্রত্যেকে একজন বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর হবে। পড়ালেখা কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া যাবে না, তবে একই সঙ্গে খেলতেও হবে। যে খেলোয়াড় হতে চায় তাকে খেলোয়াড় হতে হবে, যে গায়ক হতে চায় তাকে গায়ক হতে হবে, রাষ্ট্র সেই পথ তৈরি করে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের এই দেশটা একসময় পরাধীন ছিল। যুদ্ধ করে স্বাধীন করেছেন আমাদের পূর্বপুরুষরা। তারপর আরও অনেক ঘটনা প্রবাহের পর ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতা আন্দোলন করে আবার স্বাধীন করে।

শিশুদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে থেকে ইনশাআল্লাহ আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়, ডাক্তার, আইনজীবী, প্রকৌশলী, স্থপতি তৈরি হবে। তোমাদের মধ্যে থেকেই একদিন এমপি হবে, মন্ত্রী হবে, প্রধানমন্ত্রী হবে, প্রেসিডেন্ট হবে।’

এসময় তিনি উপস্থিত শিশু-কিশোরদের কাছে জানতে চান কে কে দেশের দায়িত্ব নিতে পারবে না হাত তুলতে হবে। কেউ হাত তুলেনি। এরপর তিনি জানতে চান, দেশের দায়িত্ব নিতে চায় কে কে? তখন সবাই হাত তুললে তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। সবশেষে প্রধানমন্ত্রী নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬ এর লগো ও ট্রফি উন্মোচন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন— প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর. প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এমএ মালিক, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসনের সাংসদ শাম্মি আখতারসহ সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

এদিকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, ক্রিকেট, ফুটবল, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, দাবা, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার ও মার্শাল আর্ট এই আটটি ইভেন্টে সারাদেশে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, এটি একটি যুগান্তরকারী কর্মসূচি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দক্ষ খেলোয়াড় গড়ে তোলার শক্তিশালী ও স্থায়ি প্ল্যাটফর্ম।

তিনি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে ক্রীড়া খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সরকার তা বাস্তবায়নে কাজ করছে। ইতোমধ্যে ক্রীড়া কার্ড ও ক্রীড়া ভাতার মতো সময়োপযোগী উদ্যোগ চালু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ হবে অদেখা প্রতিভা খুঁজে বের করার একটি বড় প্ল্যাটফর্ম। এই কর্মসূচির আওতায় ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোররা অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, দাবা, অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার ও মার্শাল আর্ট- এই ৮টি খেলাকে কেন্দ্র করে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।

পুরো প্রতিযোগিতাকে প্রশাসনিকভাবে ঢাকা, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, কৃমিল্লা, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ এই ১০টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। একজন প্রতিযোগী সর্বোচ্চ দুটি ইভেন্টে অংশ নিতে পারবে।

ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি ও ব্যাডমিন্টন হবে নকআউট পদ্ধতিতে। দাবা প্রতিযোগিতা হবে সুইস-লিগ পদ্ধতিতে। অন্যদিকে অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার ও মার্শাল আর্টে প্রাথমিক বাছাইয়ের পর ফাইনাল রাউন্ড অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১৩ থেকে ২২ মের মধ্যে আঞ্চলিক পর্যায়ের সব কার্যক্রম শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু হয়ে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে চূড়ান্ত পর্বে জাতীয় পর্যায়ের সেরা খেলোয়াড়দের নির্বাচন করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com