

স্পেনের অন্যতম শীর্ষ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ বর্তমানে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতায় কাঁপছে। দলের দুই তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আন্তোনিও রুডিগার আলাদা দুটি উত্তপ্ত ঘটনায় জড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। সামনে এল ক্লাসিকোতে বার্সেলোনার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ থাকায় এই উত্তেজনা দলের পরিবেশকে তলানিতে নামিয়ে এনেছে।
ঘটনার শুরু এপ্রিল মাসে, যখন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার রুডিগার অনুশীলন মাঠে এক সতীর্থের সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। জার্মান এই ফুটবলারের আচরণে দলটি আরও অস্থির হয়ে ওঠে, বিশেষ করে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নেওয়ার পর।
পরবর্তীতে রুডিগার দুঃখ প্রকাশ করেন এবং দল ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একসঙ্গে খাবারের আয়োজন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন। তবুও মৌসুমের শেষভাগে এই ঘটনা দলের ওপর চাপ তৈরি করে রেখেছে।
অন্যদিকে, উত্তেজনা শুধু খেলোয়াড়দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। এমবাপ্পে কোচিং স্টাফের এক সদস্যের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। অনুশীলনের সময় একজন সহকারী রেফারি তাকে অফসাইডের সংকেত দিলে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান এবং আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেন বলে জানা গেছে।
এর আগেও বদলি হওয়ার সময় তার অসন্তোষ প্রকাশ পাওয়ায় কোচিং স্টাফের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
এছাড়া চোট থেকে সেরে ওঠার সময় ইতালির সার্ডিনিয়া সফরে যাওয়াও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। যখন তার সতীর্থরা মাঠে লড়াই করছিল, তখন তার এই ভ্রমণকে অনেকেই দায়িত্ববোধের ঘাটতি হিসেবে দেখেছেন। এমনকি ক্লাব কর্তৃপক্ষ কেন এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেয়নি, তা নিয়েও অভ্যন্তরীণ সমালোচনা রয়েছে।
তবে এমবাপ্পের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তার প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার বিষয়গুলো অতিরঞ্জিত করে সমালোচনা করা হচ্ছে, যা তার দলের প্রতি নিষ্ঠা ও প্রতিদিনের পরিশ্রমকে সঠিকভাবে তুলে ধরে না।
গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে এই অস্থিরতা রিয়াল মাদ্রিদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।