

ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে। জ্বালানি তেলসহ নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে সাধারণ মানুষের জীবনে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে। তবে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আমজনতার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি একটুও ভাবেন না। মঙ্গলবার চীন সফরে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। সংবাদমাধ্যম নিউ রিপাবলিকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
এক সাংবাদিক ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন, ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। এমন অবস্থায় আমেরিকানদের আর্থিক দুরবস্থা কি ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে তাকে প্রভাবিত করছে? জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘একটুও না। ইরান যেন কখনও পারমাণবিক অস্ত্র না পায়, সেটাই আমার একমাত্র চিন্তা।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি আমেরিকানদের আর্থিক অবস্থা নিয়ে ভাবি না, অন্য কারও বিষয়েও না। আমি শুধু একটি বিষয় নিয়েই ভাবি—ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র যেতে দেওয়া যাবে না।’
পরে সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের সাংবাদিক ক্যারেন ট্রাভার্স তার বক্তব্য পরিষ্কার করতে চাইলে ট্রাম্প নিজের অবস্থানে অনড় থাকে বলেন, ‘শেয়ারবাজার উঠুক বা নামুক, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইরান পারমাণবিক অস্ত্র না পায়।’
এ সময় এক সাংবাদিক সাধারণ মানুষের খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির চাপের বিষয়টি তুললে ট্রাম্প দাবি করেন, ‘আমেরিকানরা বিষয়টি বোঝে। সাম্প্রতিক এক জরিপে ৮৫ শতাংশ মানুষ মনে করে ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই পরিস্থিতি শেষ হলে তেলের দাম অনেক কমে যাবে, শেয়ারবাজারও চাঙ্গা হবে। আমরা এখনই এক ধরনের স্বর্ণযুগে আছি।’
ট্রাম্পের এ বক্তব্য নিয়ে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ডেমোক্র্যাট নেতারা অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সংকটকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
মার্কিন কংগ্রেস সদস্য আদ্রিয়ানো এসপাইয়াত বলেন, ‘ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে তিনি আমেরিকানদের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে চিন্তিত নন।’
এদিকে সাম্প্রতিক বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।