

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির দক্ষিণাঞ্চলে একটি পাঁচতলা বাণিজ্যিক ভবন ধসে পড়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার সন্ধ্যায় সাকেত মেট্রো স্টেশনের কাছে সাইদুলাজাব এলাকার ওয়েস্টার্ন মার্গে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভবন ধসের পরপরই পুরো এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় এবং সেখানে আটকা পড়েন বহু মানুষ।
আজ রোববার ভারতীয় বার্তাসংস্থা এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানান হয়।
প্রতিবেদনে কর্তৃপক্ষের বরাতে জানান হয়, এখন পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে এখনও অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাদের উদ্ধারে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ভবনটিতে একটি মেডিকেল কোচিং ইনস্টিটিউট, কয়েকটি ক্যাফে এবং একাধিক করপোরেট অফিস ছিল। ভবনের তৃতীয় তলায় দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও নির্মাণকাজ চলছিল। শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা পৌনে ৮টার দিকে হঠাৎ পুরো ভবনটি ধসে পাশের একটি অস্থায়ী টিনশেড ক্যান্টিনের ওপর পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার সময় ক্যান্টিনে রাতের খাবার খাচ্ছিলেন বহু শিক্ষার্থী। স্থানীয় বাসিন্দা রবীন্দ্র সিং জানান, ভবনটি মাত্র চার থেকে পাঁচ বছর আগে নির্মিত হয়েছিল এবং সেখানে প্রতিদিনই শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি থাকত। ঘটনার সময় ক্যান্টিনে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০০ থেকে ১৫০ জন পর্যন্ত মানুষ আটকে থাকতে পারেন, যাদের একটি বড় অংশ মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে নিয়োজিত শিক্ষার্থী।
দুর্ঘটনার পর নিখোঁজদের খোঁজে ঘটনাস্থলে ভিড় করছেন স্বজন, সহপাঠী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেকেই বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে প্রিয়জনদের খোঁজ করছেন।
দিল্লি ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে তিনটি দমকল ইউনিট পাঠানো হলেও পরে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় আরও বেশ কয়েকটি ইউনিট মোতায়েন করা হয়। বর্তমানে উদ্ধারকারীরা এক্সক্যাভেটর, হাইড্রোলিক কাটার, জ্যাক এবং ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছেন।
নিখোঁজদের অবস্থান শনাক্ত করতে ব্যবহার করা হচ্ছে ভিকটিম-লোকেশন ক্যামেরা, আর্থ-অগার ড্রিলিং মেশিন এবং বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত সন্ধানী কুকুর। রাতভর ফ্লাডলাইটের আলোয় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ের কর্মকর্তা ধর্মবীর সিং বলেছেন, উদ্ধারকাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত হতাহত ও আটকে পড়াদের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। আটকে থাকা ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোই বর্তমানে প্রধান লক্ষ্য।
দক্ষিণ দিল্লির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার অনন্ত মিত্তাল জানান, সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে ভবন ধসের খবর পাওয়ার মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে মেহরাউলি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ভবনটির মালিকানা, নির্মাণ অনুমোদন এবং চলমান নির্মাণকাজে কোনো ধরনের অবহেলা বা অনিয়ম ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। ভবন ধসের কারণ উদঘাটনে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।
উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র এখনও স্পষ্ট নয়। তবে রাজধানীর সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় এই দুর্ঘটনা দেশজুড়ে উদ্বেগ ও শোকের সৃষ্টি করেছে।