

যশোরের চৌগাছায় কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা সাজিয়ে ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে গুলির ঘটনায় দায়ের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় আজ থেকে আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। মামলায় তৎকালীন পুলিশ সুপারসহ মোট আটজন আসামির বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আজ সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে মামলাটির কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত এই মামলায় অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।
মামলার তিনজন আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন চৌগাছা থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক আকিকুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান এবং কনস্টেবল জহরুল হক। অন্যদিকে সাবেক পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানসহ পাঁচজন আসামি পলাতক রয়েছেন।
পলাতক তালিকায় আরও আছেন তৎকালীন ওসি মশিউর রহমান, এসআই মোখলেছ, এসআই জামাল ও এসআই মাজেদুল।
এর আগে ২০ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল আট আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেয়। সেই সময় গ্রেপ্তার থাকা আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচারের আবেদন করেন।
প্রসিকিউশনের ভাষ্যমতে, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট চৌগাছা এলাকায় ছাত্রশিবিরের দুই নেতা ইসরাফিল হোসেন ও রুহুল আমিনকে একটি মামলায় আটক করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তাদের আদালতে না পাঠিয়ে টানা দুই দিন নির্যাতন চালানো হয়।
পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নাটক সাজিয়ে গুলিবর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তারা গুরুতরভাবে আহত হন।
আরও বলা হয়, আহত অবস্থায় তাদের ক্ষতস্থানে বালু ঢুকিয়ে ব্যান্ডেজ করা হয় এবং পরে অস্ত্র মামলায় চালান দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ওই অস্ত্র মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়।
আহতদের অবস্থার অবনতি হলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত তাদের পা কেটে ফেলতে হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।