শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০১:১০ অপরাহ্ন

উত্তর কোরিয়ায় যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬
  • ১৬ বার

দীর্ঘ সাত বছর পর চীনের শীর্ষ নেতা শি জিনপিং আগামী সপ্তাহে উত্তর কোরিয়ায় দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যাচ্ছেন। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান কিম জং উনের সঙ্গে তার এ সাক্ষাৎ মূলত কিমের জন্য ওয়াশিংটনকে এটি দেখানোর এক মস্ত বড় সুযোগ যে, পশ্চিমাদের দ্বারা উপেক্ষিত হলেও বিশ্বমঞ্চে তার পাশে অত্যন্ত শক্তিশালী বন্ধুরা রয়েছে।

গতকাল শুক্রবার দুই দেশেরই সরকারি সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করে জানিয়েছে, আগামী ৮ ও ৯ জুন শি জিনপিং উত্তর কোরিয়ায় অবস্থান করবেন। প্রায় সাত বছর পর এটিই হবে তার প্রথম পিয়ংইয়ং সফর; এর আগে তিনি ২০১৯ সালে উত্তর কোরিয়ায় গিয়েছিলেন।

উত্তর কোরিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও চীন দেশটির প্রধান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। ২০১৯ সালের জুনে হানোইয়ে ট্রাম্প-কিম পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পরপরই শি উত্তর কোরিয়া সফর করেছিলেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে কিমের সঙ্গে আবারও বসার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে কিমের শর্ত হলোÑ যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের শত্রুতামূলক নীতি পরিহার করতে হবে এবং উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। কিন্তু উত্তর কোরিয়ার পরমাণু ত্যাগের দীর্ঘদিনের মার্কিন নীতির কারণে এ শর্ত পূরণ করা বেশ কঠিন।

হানোই বৈঠকের পর থেকে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু ও অস্ত্র কর্মসূচি বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি সপ্তাহেই উত্তর কোরিয়া তাদের তৃতীয় একটি পারমাণবিক কেন্দ্রে কিম জং উনের সেন্ট্রিফিউজ পরিদর্শনের ছবি প্রকাশ করে একটি নতুন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের অস্তিত্ব জানান দিয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কিম জং উন বিশ্বকে দেখাতে চান, আমেরিকার কাছে মাথা নত না করে কিংবা দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না রেখেই তিনি তার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

এদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সেনা ও অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করার পর থেকে মস্কোর সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্ক অভাবনীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পিয়ংইয়ংয়ে বর্তমানে চীনের চেয়ে রাশিয়ার প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতা বেশি। ফলে কিমের ওপর বেইজিংয়ের একক আধিপত্য কিছুটা হলেও খর্ব হয়েছে। শি জিনপিং এ সফরে বন্ধ থাকা সীমান্ত পুরোপুরি খুলে দেওয়া এবং বাণিজ্য বাড়ানোর মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার ওপর চীনের সেই প্রধান চালিকাশক্তির অবস্থানটি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চাইবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com