বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪০ অপরাহ্ন

ক্লিন শিটের রেকর্ড গড়ে ও চেকিয়ার বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে নকআউটে মেক্সিকো

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬
  • ২৩ বার

অতিরিক্ত মিনিটের শেষ মুহূর্তে আলভারো ফিদালগোর দূরপাল্লার জোরালো শট যখন জালে জড়ায়, তখনই নিশ্চিত হয়ে যায় মেক্সিকোর দাপুটে জয়। চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ৩-০ গোলের এই জয়ে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে টানা তিন ম্যাচ জিতে শতভাগ সাফল্য ধরে রাখল স্বাগতিকরা।

শুধু জয় নয়, পুরো গ্রুপ পর্বে কোনো গোল না হজম করে ক্লিন শিটের বিরল কীর্তিও গড়েছে তারা। এই ফলের মাধ্যমে গ্রুপসেরা হয়েই নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে মেক্সিকো। অন্যদিকে নিঃশব্দে বিদায় নিতে হলো চেকিয়াকে।

নকআউটের আশা টিকিয়ে রাখতে চেকিয়ার জন্য এই ম্যাচ ছিল বাঁচা-মরার লড়াই। কিন্তু শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল মেক্সিকোর হাতে। চেকিয়া কোচ মিরোস্লাভ কৌবেক একাদশে রাখেননি দুই অভিজ্ঞ খেলোয়াড় পাত্রিক শিক ও টমাস সৌচেককে, যার প্রভাব স্পষ্টভাবে পড়ে তাদের খেলায়। মাঝমাঠে দাপট দেখান মাত্র ১৭ বছর বয়সী গিলবার্তো মোরা, যার উপস্থিতি মেক্সিকোর আক্রমণভাগে এনে দেয় নতুন গতি।

মাত্র ১৭ বছর ৭ মাস ২৮ দিন বয়সে বিশ্বকাপের শুরুর একাদশে নামা মোরা ইতিহাসেও জায়গা করে নেন। ২০০২ সালে নাইজেরিয়ার ফেমি ওপাবুনমির পর তিনি হন বিশ্বকাপে সবচেয়ে কম বয়সী শুরুর একাদশের খেলোয়াড়দের একজন, পাশাপাশি ষষ্ঠ সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে নাম লেখান। তার নিয়ন্ত্রণ, পাসিং আর খেলায় বোঝাপড়া মেক্সিকোর আক্রমণকে বারবার ধারালো করে তোলে।

দ্বিতীয়ার্ধে মোরার একটি নিখুঁত পাস থেকে তৈরি হয় দারুণ সুযোগ, যদিও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন লুইস রোমো। তবে ৭২ মিনিটে মাঠ ছাড়ার সময় এই তরুণকে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান দর্শকরা।

এরপর ম্যাচে আরও একটি আবেগঘন মুহূর্ত আসে, যখন ৭৭তম মিনিটে গোলরক্ষক গুইয়ের্মো ওচোয়া মাঠে নামেন। ৪১তম জন্মদিনের ঠিক আগে নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নামা এই অভিজ্ঞ ফুটবলারকে ঘিরে গ্যালারিতে তৈরি হয় উচ্ছ্বাস। মেক্সিকো কোচ হাভিয়ের আগুইরে পরে এই রাতকে ‘মেমো ওচোয়ার রাত’ বলে অভিহিত করেন।

ম্যাচের প্রথম গোল আসে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই। বাঁ প্রান্ত থেকে উঠে এসে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ব্যবধান গড়ে দেন ডিফেন্ডার মাতেও চাভেস। এই গোলেই ভেঙে যায় চেকিয়ার রক্ষণ।

এরপর দ্রুতই দ্বিতীয় গোলের ধাক্কা খায় ইউরোপিয়ান দলটি। হোর্হে সানচেসের আক্রমণ থেকে বল পেয়ে সহজ ফিনিশিংয়ে জাল খুঁজে নেন জুলিয়ান কিনিওনেস, যা ছিল টুর্নামেন্টে তার দ্বিতীয় গোল। ম্যাচের যোগ করা সময়ে আলভারো ফিদালগো দূরপাল্লার শটে তৃতীয় গোল করলে বড় জয়ে রূপ নেয় মেক্সিকোর পারফরম্যান্স।

ম্যাচ শেষে কোচ হাভিয়ের আগুইরে বলেন, চার দশক আগেও তিনি এমন একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তের অংশ ছিলেন, তবে এই জয় তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তগুলোর একটি। তার ভাষায়, অভিজ্ঞতা যত বাড়ে, এমন অর্জন তত বেশি গভীরভাবে ছুঁয়ে যায়।

চেকিয়ার কোচ মিরোস্লাভ কৌবেক অবশ্য দাবি করেন, এটি তাদের টুর্নামেন্টের সেরা পারফরম্যান্স ছিল, তবে ফলাফল তাদের বিপক্ষে গেছে। ম্যাচজুড়ে মেক্সিকোর আধিপত্যের সামনে কার্যত কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি তার দল।

শেষ পর্যন্ত টানা তিন জয়, কোনো গোল না খেয়ে গ্রুপসেরা হওয়া এবং সপ্তম দল হিসেবে গ্রুপ পর্বে ক্লিন শিটের রেকর্ড নিয়ে নকআউট পর্বে পা রাখল মেক্সিকো। অন্যদিকে ব্যর্থতার গল্প নিয়েই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো চেকিয়াকে।

উল্লেখ্য, ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে গ্রুপ পর্বে কোনো গোল হজম না করার রেকর্ডটি এতদিন ৬টি দলের দখলে ছিল। দলগুলো হলো: উরুগুয়ে (১৯৫৪ বিশ্বকাপ), ব্রাজিল (১৯৫৮ বিশ্বকাপ), ইংল্যান্ড (১৯৮২ বিশ্বকাপ), ইতালি (১৯৯০ বিশ্বকাপ), আর্জেন্টিনা (১৯৯৮ বিশ্বকাপ) ও ফ্রান্স (১৯৯৮ বিশ্বকাপ)। এবার সেখানে ভাগ বসালো মেক্সিকো।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com