শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ ও জালিয়াতি রোধ সহজ হবে: আইনমন্ত্রী নতুন দায়িত্ব পেলেন হুইপ দুলু পে-স্কেলের পরও দুর্নীতি হলে সরকারি চাকরিজীবীদের বিরুদ্ধে নামবে জনগণ-ভোলায় সারজিস আলম রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পদের আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা সুপ্রিম কোর্ট ভবন নির্মাণে ভুয়া বিলে ৬.৩২ কোটি টাকা আত্মসাৎ স্থানীয় নির্বাচনে কোনো বেআইনি নির্দেশনা দেবো না: সিইসি চট্টগ্রামে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনে দুর্ঘটনায় ২ সেনাসদস্য নিহত পলিথিন-প্লাস্টিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বন্ধে কঠোর হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর যেন ফিরে এসেছে নব্বইয়ের দশক এসএসসির খাতা পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশের তারিখ ঘোষণা

বিশ্বকাপে হতাশ করেছে এশিয়া

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬
  • ৪৬ বার

২০২৬ সালের বিশ্বকাপে এশিয়ার দলগুলোর পারফরম্যান্স ছিল বেশ হতাশাজনক। তবে এই হতাশার মাঝেও জাপান দেখিয়েছে সাহস, দক্ষতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার শক্তি। শেষ ষোলোর ম্যাচে শক্তিশালী ব্রাজিলের বিপক্ষে দীর্ঘ সময় দাপট দেখিয়েও শেষ মুহূর্তের গোলে ২-১ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় জাপান। ম্যাচজুড়ে তারা প্রমাণ করে যে, সঠিক পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক উন্নয়নের মাধ্যমে এশিয়ার দলগুলোও বিশ্বের সেরাদের সঙ্গে সমানতালে লড়তে পারে।

জাপানের প্রধান কোচ হাজিমে মরিয়াসু ম্যাচের আগে বলেছিলেন, এশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করাই তাদের লক্ষ্য এবং তারা অন্য এশীয় দেশগুলোর জন্য অনুপ্রেরণা হতে চান। তার এ বক্তব্য মাঠের পারফরম্যান্সেও প্রতিফলিত হয়। তবে কাওরু মিতোমা, ওয়াতারু এন্দো, তাকুমি মিনামিনো ও তাকেফুসা কুবোর মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি শেষ পর্যন্ত জাপানের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এবারের বিশ্বকাপে এশিয়ার ৯টি দলের মধ্যে সাতটি গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। শুধু জাপান ও অস্ট্রেলিয়া নকআউট পর্বে উঠতে সক্ষম হয়। অন্যদিকে আফ্রিকার ১০টি দলের মধ্যে মাত্র একটি দল গ্রুপ পর্বে বাদ পড়ে, যা দুই মহাদেশের পারফরম্যান্সের পার্থক্য স্পষ্ট করে। ইরান তিনটি ম্যাচেই ড্র করলেও নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছিল। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তাদের প্রস্তুতি ব্যাহত হয়, তবু তারা নকআউট পর্বে ওঠার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া জর্ডান ও উজবেকিস্তান এবং কঠিন গ্রুপে পড়া ইরাকও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তবে অভিজ্ঞতার অভাব সত্ত্বেও তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল উপহার দিয়েছে, যা ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। সৌদি আরব ও কাতারের ব্যর্থতার অন্যতম কারণ ছিল দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব এবং দেশীয় লিগনির্ভরতা। বিদেশি খেলোয়াড়ে সমৃদ্ধ লিগে স্থানীয় ফুটবলারদের সুযোগ সীমিত হওয়ায় সেখানে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি হচ্ছে না। বিশেষ করে কানাডার কাছে কাতারের ৬-০ ব্যবধানে পরাজয় এশিয়ার অন্যতম হতাশাজনক ফল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়াও প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়। প্রথম ম্যাচে জয়ের পর পরবর্তী দুই ম্যাচে নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সের কারণে তারা বিদায় নেয়। এই ব্যর্থতার পর প্রধান কোচ হং মিয়ং-বো পদত্যাগ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)-এর নীতিগত দুর্বলতাও এশিয়ার পিছিয়ে পড়ার একটি কারণ। ক্লাব ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার কাঠামোতে ভারসাম্যের অভাব এবং কয়েকটি দেশের প্রতি অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপ এশিয়ার ফুটবলের জন্য অনেক শিক্ষা রেখে গেছে। জাপানের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, ধৈর্য ও উন্নয়নের মডেল অনুসরণ করতে পারলে ভবিষ্যতে আরও বেশি এশীয় দল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিতে সক্ষম হবে। আগামী জানুয়ারিতে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান কাপ সেই নতুন যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com