শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৪৩ অপরাহ্ন

ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ২০

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ২ বার

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলের ফ্লোরেস দ্বীপের কাছে শক্তিশালী ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পেনিহত বেড়ে ২০ জনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার ভোরে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পে বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে এবং বিস্তীর্ণ এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উদ্ধারকাজ অব্যাহত থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কর্মকর্তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার ভোর ৫টা ৫৮ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের এনদে শহর থেকে প্রায় ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-উত্তরপশ্চিমে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার।

মূল ভূমিকম্পের পর মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যে ৫ দশমিক ৯, ৫ দশমিক ৬ ও ৬ দশমিক ১ মাত্রার তিনটি পরাঘাত অনুভূত হয়। স্থানীয় আবহাওয়া সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, পরবর্তী কয়েক দিনও এমন কম্পন অব্যাহত থাকতে পারে।

পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের পুলিশপ্রধান রুদি দারমোকো জানান, ভূমিকম্পে বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে এবং বিভিন্ন স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক শহর ও গ্রামে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।

বন্দরনগরী মাউমেরের আশপাশে উদ্ধারকারী দল এখন পর্যন্ত ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ছাড়া ছয়জন আহত হয়েছেন এবং দুজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় উদ্ধার সংস্থার প্রধান ফাতুর রহমান।

দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বিএনপিবি জানিয়েছে, নাগেকেও এলাকায় প্রায় ২ হাজার মানুষ নিরাপদ স্থানে সরে গেছেন। সেখানে বেশ কিছু বাড়ি, গুদাম ও সরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি নাগেকেও রিজেন্সির কয়েকটি এলাকায় এখনো উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে পারেনি। যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানকার প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

ভূমিকম্পের পর ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা উপকূলীয় এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করেছিল। বাসিন্দাদের সমুদ্রসৈকত ও নদীর তীর থেকে দূরে সরে গিয়ে উঁচু এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর অবশ্য পরে সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবু স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের উপকূল এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

ইউএসজিএসের হিসাব অনুযায়ী, ফ্লোরেস দ্বীপে ৫ লাখেরও বেশি মানুষ খুব শক্তিশালী ভূকম্পন অনুভব করেছেন। এ ছাড়া আশপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আরও কয়েক মিলিয়ন মানুষ মাঝারি থেকে শক্তিশালী কম্পনের মুখে পড়েছেন। দ্বীপটির উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের অনেককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র এখনও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে পারলে আরও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সামনে আসতে পারে।

উল্লেখ্য, প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। প্রায় ১৭ হাজার দ্বীপ নিয়ে গঠিত দেশটির জনসংখ্যা ২৭ কোটির বেশি।ফ্লোরেস দ্বীপের এই উপকূলীয় অঞ্চল এর আগেও ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির সাক্ষী হয়েছে। ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে একই এলাকায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট সুনামিতে ২ হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল।

এবারের ভূমিকম্পের পরও পরাঘাতের আশঙ্কা থাকায় উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি নিখোঁজদের সন্ধানেও কাজ চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com