সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:১৫ অপরাহ্ন

মার্কিন কোম্পানিগুলোতে হামলার হুমকি দিল ইরান

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪ বার

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্র তেহরানকে যুদ্ধ বন্ধে চুক্তিতে বাধ্য করতে অর্থনৈতিক যুদ্ধ শুরু করলে মার্কিন কোম্পানিগুলোতে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে ইরান। খবর দ্য টেলিগ্রাফের।

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজায়ি একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা যদি ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক যুদ্ধে অংশ নেয়, তাহলে তাদেরও শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং তাদের স্বার্থে আঘাত হানা হবে।

বুধবার ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন মাত্রায় ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও বিচ্ছিন্নতা’ আরোপ করা হবে। এর পর শনিবার রেজায়ি দাবি করেন, যুদ্ধে ইরানের হাতে এখনো অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা শুধু সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়েছি। কিন্তু তারা যদি আমাদের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে চায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের তেল ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ইরানের আশপাশে এবং অন্যান্য জায়গায় রয়েছে। আমরা সেগুলোতে হামলা চালাব।’

ট্রাম্প তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সংঘাত ভূমিকম্পের মতো হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন রেজায়ি।

কয়েক মাসের মধ্যে এই প্রথম ইরান মার্কিন ও পশ্চিমা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার হুমকি দিল বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশটির তেল কোম্পানিগুলোর কথাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

শনিবার দ্য টেলিগ্রাফ জানায়, ইরানি সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হ্যাকাররা সাইবার হামলা চালিয়ে যুক্তরাজ্যের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র চার দিন বন্ধ রাখতে সক্ষম হয়েছে।

এর আগে বুধবার ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন, যেসব দেশ ইরানকে যেকোনো ধরনের সহায়তা দেবে, তাদের ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতি ভোগ করতে হবে। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি তেহরানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক অভিযান চালানোর ঘোষণা দেন এবং মিত্র দেশগুলোকে ইরানকে বিচ্ছিন্ন ও পরাজিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

ইরান অবশ্য কোন কোন মার্কিন প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনা হামলার লক্ষ্য হতে পারে, তা নির্দিষ্ট করে জানায়নি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন কোম্পানিগুলোর বড় ধরনের বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণ হয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর পর ফেব্রুয়ারিতে ইরান বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অ্যামাজনের কয়েকটি তথ্যকেন্দ্রে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোতেও হামলার হুমকি দিয়েছিল তারা। তবে সামরিক ও কূটনৈতিক স্থাপনার বাইরে মার্কিন স্বার্থে বড় ধরনের হামলা থেকে এত দিন তেহরান বিরত ছিল।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর ওপর হামলার আশঙ্কা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বিশেষ উদ্বেগের কারণ হতে পারে। কারণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমেছে।

ইরান এর আগে উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতেও হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে কাতারের রাস লাফান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস কেন্দ্র এবং সৌদি আরবের আরামকোর বিভিন্ন স্থাপনা রয়েছে।

শনিবার ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়িও মার্কিন বিমান ও জ্বালানি পরিবহনকারী ট্যাংকারকে আশ্রয় দেওয়া উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেছেন, পরে হামলার শিকার হলে তারা যেন অভিযোগ না করে। এমনকি বেসামরিক অবকাঠামোতেও হামলা হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুদ্ধ শেষ করতে চুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। শনিবার তিনি দাবি করেন, বিশ্ব ইতোমধ্যে ইরানের বিজয় মেনে নিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ঘৃণিত হয়ে পড়েছে।

ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চালু থাকলেও তাতে তেহরানকে নত করা সম্ভব হয়নি। নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে ইরানকে চুক্তিতে বাধ্য করার চেষ্টা তাই কতটা সফল হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

সূত্র : দ্য টেলিগ্রাফ

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com