সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৪ অপরাহ্ন

পাচারের ঝুঁকি এড়াতেই জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি: প্রতিমন্ত্রী

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৫ বার

প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম কম থাকায় পাচারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করেছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দেশের জ্বালানি তেলের দাম পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশে দাম তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে কম ছিল। তিনি উদাহরণ হিসেবে কলকাতায় ডিজেলের দাম ১৩৪ টাকা ৭৬ পয়সা, মিয়ানমারে ১৬৪ টাকা ৮৩ পয়সা, নেপালে ১৬১ টাকা ২৪ পয়সা, শ্রীলঙ্কায় ১৭৯ টাকা ৪২ পয়সা, থাইল্যান্ডে ১৫১ টাকা ২২ পয়সা, পাকিস্তানে ১৮৫ টাকা ৪৮ পয়সা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৪৪ টাকা ৭৯ পয়সা বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম দীর্ঘদিন সর্বনিম্ন পর্যায়ে ছিল। এতে দেশে আমদানি করা জ্বালানি তেল সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে পাচার হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। সেই বৈদেশিক মুদ্রা দিয়ে কেনা জ্বালানি তেল যাতে অন্য দেশে পাচার না হয়, সে বিষয়টিও সরকারকে বিবেচনায় নিতে হয়েছে।

তিনি বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি জ্বালানি তেল পাচার ঠেকাতে সরকারকে এর মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

জ্বালানি তেলের দাম কমছে না কেন- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের সমাধান যাদের হাতে, মূলত তাদের কাছেই এ প্রশ্নের উত্তর রয়েছে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, প্রতি মাসে সরকারকে জ্বালানিতে ১৩ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু ডিজলে ভর্তুকি দিতে হচ্ছিল প্রতি লিটারে ৯০ টাকা, এটি বছরে অনেক। শুধু ডিজেলে ভর্তুকি দিতে হতো ৪০ হাজার কোটি টাকা। আর সব জ্বালানি খাতে ৫০ হাজার কোটি টাকা লোকসান দিতে হতো। তাই সরকার বাধ্য হয়েছে।

এর আগে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও বিপুল পরিমাণ আর্থিক লোকসান সামাল দিতে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। পুনর্নির্ধারিত এই দর অনুযায়ী ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন দর অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিনের দাম ১৩৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতি লিটার অকটেনের দাম ১৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোলের দাম ১৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬০ টাকা করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে বিশ্ববাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের মূল্য এবং ফ্রেইট চার্জ অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থ বিবেচনায় বিগত পাঁচ মাস দেশে তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। ফলে গত মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রায় ২২,৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com