

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার মামলার বাদীর সঙ্গে আপস হয়েছে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের। আজ বুধবার গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামের জামিন আবেদনের শুনানিতে বাদী নিহত মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আদালতে আপসনামা দাখিল করে জামিনে অনাপত্তি দেন। তবে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ শুনানি করে মামলাটি তদন্তাধীন থাকায় জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেছেন।
আপসনামায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামকে সন্দেহের বশে আসামি করে মামলা করেছেন উল্লেখ করেছেন বাদী এস এম মাসুম বিল্লাহ।
আপসনামায় বলা হয়, মামলা দায়েরের পর মাসুম বিল্লাহ বিভিন্ন মাধ্যমে অবগত হয়েছেন, নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামের প্ররোচনায় কিংবা তাদের কোনো কার্যকলাপে রাগ বা অভিমানে মরিয়ম আত্মহত্যা করেনি। তাই গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম জামিন পেলে তার আপত্তি নেই।
এর আগে গত সোমবার আট দিনের রিমান্ড শেষে গাজী নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। গত ২১ সেপ্টেম্বর ৪ দিন এবং গত ২৪ সেপ্টেম্বর তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এই মামলায় নিহতের মামা ওবায়দুর রহমান এবং গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ১ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে রয়েছেন।
এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টো দিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। মামলার এজাহারে মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেছেন, গত জুনে তার শ্যালক ওবায়দুর রহমানের ‘প্রত্যক্ষ প্ররোচনায়’ সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের সঙ্গে বাদীর বড় মেয়ে মরিয়মের (১৯) বিয়ে হয়। সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ৫ নম্বর ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর বাসায় নজরুল ও মাকছুদার সঙ্গে থাকতেন মরিয়ম।
এজাহারে বলা হয়, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নজরুল ও মাকছুদা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে মরিয়ম তার পরিবারকে বলে গেছেন। এর মধ্যে ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নজরুল মোবাইল ফোনে বাদীকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে মরিয়মকে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে থাকতে দেখেন বাবা মাসুম বিল্লাহ।
তিনি এজাহারে লিখেছেন, মরদেহ উদ্ধারের সময় মেয়ের বিছানার ওপরে তার লেখা ‘সুইসাইড নোট’ দেখতে পান।একটি চিরকুটে লেখা আছে, ‘শুধু মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই…তা না হলে যতটা সস্তা ভাবছো ততটা সস্তা আমি নই…।’ আরেকটিতে লেখা, ‘আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম তার সাথে, জিততে পারিনি হেরে গেলাম ময়দানে। জিতবইবা কেমনে, যুদ্ধের শেষ প্রান্তে যেয়ে দেখি তুমিতো ছিলে বিপক্ষের সেনাপতি। আমি হেরেছি তুমি জিতেছো, কারণ আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম বলেই তো ঠকিয়ে জিততে পেরেছো। আমি ধ্বংসের শেষ দাঁড়িয়েও মুখে হাসি রেখেছি। ভেবে নাও এই হাসির কারণই হবে তোমার ধ্বংসের কারণ।’
আরেকটি চিরকুটে আছে দুটি লেখা। একটিতে আছে, ‘সে ছিলো অন্য নারীর স্বামী। কাগজে কলমে অধিকার ছিল তার বউ এর…!!! আর আমি ছিলাম বোকা…!!!অন্য কারো স্বামীকে বানিয়েছিলাম নিজের শখের পুরুষ…!!!’ অপর লেখায় আছে, ‘কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারিয়ে ফেলা বেশির সম্মানের। কারণ ভালোবাসা কখনোই ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়…ভালোবাসা হয় সম্পূর্ণ, না হয় অপূর্ণ!’
২০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে মরিয়ম আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে এজাহারে বলা হয়েছে।
গত ২০ জুলাই রাতে ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে মরিয়মের সঙ্গে এমপি নজরুলের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে প্রথমে জামায়াতের নেতাকর্মীরা এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বলে দাবি করেন।পরে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম ফেসবুকে পোস্টে ওই তরুণীকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ার কথা জানিয়ে গত ২২ জুলাই গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াতে ইসলামী। বিরোধী দল এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে পরে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেয়।