

ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোট জালিয়াতি ও ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র নেতাদের করা আবেদনে ১৪টি ত্রুটি পেয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। এর মধ্যে আদালত ফি বাবদ ২২০ রুপি কম জমা দেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে। ভারতীয় বার্তাসংস্থা এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রি এসব ত্রুটি চিহ্নিত করে। অন্যান্য ত্রুটির মধ্যে রয়েছে নয়জন আবেদনকারীর প্রয়োজনীয় অনুমোদনপত্র না থাকা এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের পরিচয়পত্রের অস্পষ্ট ফটোকপি জমা দেওয়া।
আবেদনটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করতে হলে এসব ত্রুটি সংশোধন করতে হবে বলে জানিয়েছে আদালত।
সোমবার কেন্দ্রীয় দিল্লিতে হাজারো মানুষ জড়ো হয়ে সুপ্রিম কোর্টের দিকে মিছিল করেন। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কথিত ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করেন বিরোধী নেতারা। মিছিল চলার সময় তাদের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টে আবেদনটি জমা দেন।
আবেদনে যেসব ত্রুটি পেয়েছে আদালত
সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রির তালিকায় বলা হয়েছে, আবেদনের সঙ্গে কয়েকটি প্রয়োজনীয় ‘ওকালতনামা’ বা আইনজীবী নিয়োগের লিখিত অনুমোদনপত্র জমা দেওয়া হয়নি। মল্লিকার্জুন খাড়গের পরিচয়পত্রের স্পষ্ট অনুলিপিও চাওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া নথির অক্ষর অতিরিক্ত ছোট হওয়া, দুটি নির্দিষ্ট নথির রঙিন অনুলিপি জমা না দেওয়া, অস্পষ্ট লেখা, পৃষ্ঠা অনুপস্থিত থাকা, আঞ্চলিক ভাষায় লেখা পৃষ্ঠা নিয়ে সমস্যা এবং কয়েকটি পৃষ্ঠার নম্বরের অসংগতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনকারীদের তালিকায় রাহুল গান্ধী ও খাড়গে ছাড়াও রয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সৌগত রায়, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব, রাষ্ট্রীয় জনতা দলের নেতা তেজস্বী প্রসাদ যাদব, সুপ্রিয়া সুলে, শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) নেতা সঞ্জয় রাউত, ডি রাজা, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার মহুয়া মাঝি, এম এ বেবি এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের নেতা ই টি মোহাম্মদ বশির।
আবেদনে বিবাদী করা হয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশীকে।
১০ দফা প্রতিকার চেয়েছে বিরোধী জোট
সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ‘রাহুল গান্ধী বনাম ভারতের নির্বাচন কমিশন’ নামে তালিকাভুক্ত আবেদনে ১০ ধরনের প্রতিকার চেয়েছেন বিরোধী নেতারা। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি আবেদনটির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে।
আবেদনের উল্লেখযোগ্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
– ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)–সংক্রান্ত সব নথি আদালতে উপস্থাপন করা।
– এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তগুলোর সাংবিধানিক বৈধতা পরীক্ষা করা।
– অনিয়মের জন্য দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
– আবেদনকারীদের অভিযোগের প্রতিকার নিশ্চিত করা।
– একটি স্বাধীন কমিটির মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়ার নিরীক্ষা করা।
বিরোধী জোটের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচন পরিচালনায় অনিয়ম হয়েছে। এসব অভিযোগের প্রতিকার এবং নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমের জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।
প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ না পেয়ে আদালতে বিরোধীরা
সোমবারের মিছিলে বিরোধী জোটের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন। এর আগে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করেও সফল হননি তারা।
প্রধান বিচারপতির কাছে স্মারকলিপি দিয়ে ভোট চুরি বন্ধ, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন স্থগিত এবং কাগজের ব্যালটে ভোট গ্রহণ পুনরায় চালুর দাবি জানাতে চেয়েছিলেন বিরোধী নেতারা। তবে বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় প্রধান বিচারপতি তাদের সাক্ষাতের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন।
এর আগে বিরোধী নেতারা কীভাবে তাদের অভিযোগ আদালতে তুলে ধরতে পারেন এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেছিলেন, সাধারণ নাগরিক হোক কিংবা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, সবার জন্যই সুপ্রিম কোর্টের দরজা খোলা রয়েছে।
এখন আবেদনের ত্রুটিগুলো সংশোধনের পরই এটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।