

কুমিল্লার ঘটনার জেরে দেশের বিভিন্ন স্থানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলার নেপথ্যের কারণ খুঁজতে শীর্ষনেতাদের নিয়ে দুটি কমিটি করেছে বিএনপি। আজ মঙ্গলবার নোয়াখালী ও কুমিল্লা সফরে যাচ্ছেন তারা। দলটির নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, বাড়ি-মন্দিরে ওইসব হামলার ঘটনায় বিএনপিকে জড়ানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। দলীয় নেতা আমান উল্লাহ আমান ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ১২নং ওয়ার্ডের দলের এক নেতার ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনাও কাজে লাগেনি বলে মনে করছে দলটি। বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনায় দলটি নির্যাতিত মানুষের পাশে থাকবে। গত বুধবার ঘটনার পর দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। সারাদেশে পূজাম-পে হামলার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে এবং সরেজমিন তদন্তে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায়ের নেতৃত্ব একটি টিম করা হয়েছে। এই টিম আগামী রবিবার কুমিল্লা ও নোয়াখালী পরিদর্শনে যাবে। সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের নেতৃত্বে আরেকটি টিম করা হয়েছে। গত রবিবার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিএনপির স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, কমিটি দুটি উপদ্রুত এলাকাগুলো সফর করে কেন্দ্রে প্রতিবেদন দেবে। সূত্র জানায়, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ওইসব
হামলাসহ সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে পর্যালোচনা হয়। নেতারা মনে করেন, যেহেতু দেশে সরকার পরিবর্তনের একটি রব উঠেছে, সামনে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের বিষয় আছে; তাই দেশে আরও কিছু ঘটনা ঘটতে পারে। বিএনপি মনে করে, বরাবরের মতো এবারও ইস্যু সৃষ্টি করে সরকার পার পেতে চাইছে। কুমিল্লাসহ সারাদেশের ঘটনা এর বাইরে নয়।
স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায় আমাদের সময়কে বলেন, আমাদের আরও অধিক সচেতন থাকা দরকার এবং অধিক গুরুত্ব দিয়ে এই ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে। সব সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে আমাদের আবেদন থাকবে, আলেম-ওলামাদের কাছেও আবেদন থাকবে- আপনারা সরকারের ফাঁদে পা না দিয়ে সংগঠিত হোন। ওই ঘটনায় সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলন, কোনো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়।
কুমিল্লাসহ সারাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনার দায় বিএনপি ঘাড়ে চাপানোর একটি চক্রান্ত ছিল বলে মনে করে বিএনপি। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা মনে করেন, এক্ষেত্রে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের নামে ফাঁস হওয়া ফোনালাপটি সুপার এডিটিং করে বানানো বলে মনে করে দলটি।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, স্থায়ী কমিটির সভায় ইন্টারনেটসহ ডিজিটাল সব মাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করে রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে সরকার ক্ষমতার যে অপপ্রয়োগ চালাছে, তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। জনগণের মৌলিক অধিকার, স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা অক্ষুণœ রাখার আহ্বান জানানো হয়। এ বিষয়ে পরে কর্মসূচী গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানাতে গিয়ে এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিরাজমান রাজনৈতিক সংকট থেকে জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে সরকার সাম্প্রদায়িক সংকট সৃষ্টি করছে বলে স্থায়ী কমিটির সভা মনে করে। প্রতিটি ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি জটিলতর হয়েছে। এ ছাড়াও বৈঠকে এসব ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। কোনো তদন্ত ছাড়াই বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের বাড়িঘরে পুলিশি তল্লাশি ও অভিযানের তীব্র নিন্দাও জানানো হয়।