

ঘোষিত তফসিল অনুসারে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। আর জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ হবে। ফলে নতুন সরকারের পক্ষে স্বল্প সময়ের মধ্যে বাজেট তৈরি সম্ভব নয়। সে বিষয়টি মাথায় রেখেই অন্তর্বর্তী সরকার আগামী বাজেটের একটি রূপরেখা তৈরি করছে। এই রূপরেখায় পুরো বাজেটের একটি খসড়া কাঠামো দাঁড় করবে অন্তর্বর্তী সরকার। পরবর্তী সময় নতুন নির্বাচিত সরকার প্রয়োজনে এ রূপরেখা সংযোজন-বিয়োজন ও পরিমার্জন করবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আজ সোমবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাজেটসংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হবে। বৈঠকে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত এবং আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় সকালে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। বৈঠকে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ও পরিকল্পনামন্ত্রী ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর
ড. আহসান এইচ মনসুর, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারক এবং এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়া অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্টদের এই বৈঠকে থাকতে বলা হয়েছে।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার সামনে চলতি অর্থবছরে সংশোধিত বাজেট ও আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকারে নিয়ে একটি রূপরেখা উপস্থাপন করবেন অর্থ বিভাগের সচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির একটি ধারণাও দেওয়া হবে তাতে। এ ক্ষেত্রে বাজেট নিয়ে একটি এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির নিয়ে অন্য একটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হতে পারে। এই রূপরেখা বা গবেষণাপত্রটি তৈরি করছে অর্থ বিভাগের সামষ্টিক অর্থনৈতিক বিভাগ।
প্রাথমিক প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এডিপি আকার ধরা হয়েছে আড়াই লাখ কোটি টাকা। তবে বৈঠকে আলোচনা সাপেক্ষে আকার বাড়তে বা কমতে পারে। উল্লেখ্য, চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার হচ্ছে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে চিন্তা করা হয়েছিল বাজেটের এ আকার কাঁটছাট করে ৭ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হবে। কিন্তু পাঁচটি ইসলামী ব্যাংককে একীভূতকরণে আর্থিক সহায়তা এবং সরকারি চাকুরেদের কিছু সুবিধা দেওয়ার কারণে সংশোধিত বাজেটে তেমন কোনো কাটছাঁট করা নাও হতে পারে। কিংবা শেষ পর্যন্ত বাজেটের আকার খুব সামান্য (২/১ হাজার কোটি টাকা) কমতে পারে। সেক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটের আকার হতে পারে ৭ লাখ ৮৮ হাজার বা ৮৯ হাজার কোটি টাকা।
অন্যদিকে মূল বাজেটের আকার তেমন না কমলেও সংশোধিত বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার কমতে পারে ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা। ফলে সংশোধিত এডিপির আকার ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা থেকে কমে ২ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। এ ছাড়া সংশোধিত বাজেটে এবার প্রথমবারের মতো রাজস্ব বাজেটের আকার বাড়ছে। এর আকার বাজেটে ঘোষিত ৫ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ ৮৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হতে পারে।
জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের শুরুতে সরকারি চাকুরেদের জন্য আর্থিক সুবিধা প্রদানের বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। সেক্ষেত্রে মহার্ঘভাতা দেওয়া হতে পারে। এটি হতে পারে ২০ শতাংশ। বৈঠকে এ বিষয়ে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে নতুন সরকার।