

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এই বিশেষণটি কেবল দলীয় তকমা নয়; দীর্ঘ চার দশকের ঘাত-প্রতিঘাত ও প্রলোভন এড়িয়ে চলার দৃঢ়তার স্বীকৃতি হিসেবেই গণ্য হয়। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এবং তাঁকে ‘আপসহীন’ খেতাবে ভূষিত করার মূল ভিত্তি রচিত হয়েছিল ১৯৮৬ সালে।
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সেই সময়ে তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামী শেষ মুহূর্তে এরশাদের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি নির্বাচন বর্জন করে। এই সিদ্ধান্তই তাঁকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রধান মুখ এবং গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রতীকে পরিণত করে।
২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর তাঁকে ঢাকা সেনানিবাসের বাসভবন থেকে উচ্ছেদ করা হয়। ৭৩ বছর বয়সে সেই দিন তিনি আকাশের দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি আল্লাহর কাছে বিচার দিলাম।’ কিন্তু ভেঙে পড়েননি। গুলশানের ভাড়াবাড়ি থেকে নতুন করে দল গোছানো শুরু করেন।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় তাঁর ৫ বছরের সাজা হয়। অসুস্থতা বাড়লেও সরকারের শর্তে মুক্তি নিতে রাজি হননি তিনি।
কারাবন্দি হওয়ার আগে খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ‘আওয়ামী লীগকে আমাদের কিছুই করতে হবে না। ওরা নিজেরাই একদিন পচবে। পচে দুর্গন্ধ ছড়াবে।’ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে কথাটি সত্য বলে অনেকের ধারণা।
জেল, জুলুম, গৃহবন্দিত্ব, সন্তানের মৃত্যু ও নির্বাসন, শারীরিক অসুস্থতা-কোনো কিছুই তাঁর মনোবল ভাঙতে পারেনি। বাংলাদেশের ইতিহাসে ‘আপসহীন’ শব্দটির সঙ্গে চিরঅম্লান হয়ে থাকবেন বেগম খালেদা জিয়া।