সোমবার, ০৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:৫৩ অপরাহ্ন

১১ দলীয় জোটে অসন্তোষ

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৩ বার

আসন বণ্টন নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ক্ষোভ বাড়ছে, বাড়ছে দূরত্ব। প্রত্যাশিত আসন না পাওয়ায় জামায়াতকে ‘কটাক্ক’ করে বক্তব্য দিতেও দেখা গেছে ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের। প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি নিয়ে অসন্তোষ আছে অন্যান্য দলেও। তবু আগামী নির্বাচন পর্যন্ত একসঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা তাদের। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী ৪ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের শেষ তারিখ। এরপর ১১ দলীয় জোট একসঙ্গে বসার পরিকল্পনা আছে। ইসলামী আন্দোলন জোটে থাকতে পারবে কিনাÑ এ বিষয়ে এখনও কেউ নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না।

জানা গেছে, গত রবিবার এলডিপি ও এবি পার্টি এই জোটে যোগদানের আগে জোটের লিয়াজোঁ কমিটি দফায় দফায় বৈঠক করলেও জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যকার সম্পর্কের উন্নতি ঘটাতে পারেনি। তবে জামায়াত এই ক্ষোভ কিংবা দূরত্বের বিষয়টি বাইরে জানান দিতে চায়নি। কিন্তু ইসলামী আন্দোলনের নেতারা বিভিন্ন সভা-সমাবেশে এমনকি গণমাধ্যমে বক্তৃতাকালে জামায়াতকে কটাক্ক করে বক্তৃতা দিয়ে যাচ্ছেন। বাদ বাকি দলগুলো এ নিয়ে আপাতত নীরব আছে। যদিও তারা জোটে এসে পুরোপুরি সন্তোষ্ট নন বলে অনেকেই আমাদের সময়কে নিশ্চিত করেছেন। এদিকে এনসিপি থেকে ক্রমে

কেন্দ্রীয় নেতাদের পদত্যাগ এবং নিষ্ক্রিয়তায় নিজ দল নিয়ে চিন্তিত নীতিনির্ধারকরা। ফলে দলের বাইরে জোট নিয়ে আলোচনায় তেমন মনোযোগ দিতে পারছেন না বলে দলটির একাধিক নেতা আমাদের সময়কে নিশ্চিত করেছেন।

জানতে চাইলে ইসলামী আন্দোলনের আমির সৈয়দ রেজাউল করিম আমাদের সময়কে জানান, তাদের কিছু বিষয়ে অপ্রাপ্তি আছে। তবে তা জোট থেকে সরে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে কিনা তা সময় বলে দেবে। এখনই তিনি এ বিষয়ে বলতে চান না।

জোটের কিছু বিষয়ে অভিযোগ আছে জোটের আরেক শরিক খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাদেরেরও। তবে তিনি মনে করেন, অভিযোগ থাকতেই পারে। শেষ পর্যন্ত তারা জোট থেকে বের হয়ে যাবেন কিনা এ বিষয়ে তিনি আমাদের সময়কে বলেন, না, আমরা একসঙ্গেই আছি। জোটের পরবর্তী বৈঠক কবে হতে পারেÑ এ বিষয়ে তিনি বলেন, মনোনয়ন যাছাই শেষ হলে আবার ধারাবাহিকতাভাবে বৈঠক হবে।

এর আগে গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে জামায়াতের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)- এই ছয়টি দল আসন সমঝোতার ভিত্তিতে সব আসনে একক প্রার্থী দেওয়ার আলোচনা শুরু করে। পরে এতে যোগ দেয় বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি। এই আটটি দল বিভিন্ন দাবিতে অভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে টানা অনেক দিন মাঠে ছিল। ভোটে এক বাক্স রাখার নীতিতেও তারা অগ্রসর হচ্ছিল।

এই অবস্থায় দ্বন্দ্বের সূত্রপাতের বিষয়ে জানা গেছে, ১৫০ আসনের দাবি থেকে সরে এসে চূড়ান্ত প্রস্তাবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৭৫ আসন চেয়েছিল। কিন্তু সমঝোতায় ইসলামী আন্দোলনকে ৩৫ আসন ছাড়ে জামায়াত। এতেই দলটির নেতাদের মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। দলটির নেতারা জানান, আসন সমঝোতা নিয়ে দফায় দফায় বৈঠকে কিছুটা অগ্রগতি হলেও এখন ফল প্রায় শূন্য। দলের সব প্রার্থীই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

একই অবস্থা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসেও। দলটি আসন সমঝোতায় ৫০ আসন চাইলেও শেষ পর্যন্ত দলটিকে ১৩ আসন নিশ্চিত করেছে জামায়াত। চাহিদার চেয়ে কম আসন পাওয়ায় ক্ষুব্ধ দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। এ ছাড়া খেলাফত মজলিস ৩০ আসন চাইলেও তাদের পাঁচটি দেওয়া হয়েছে। নেজামে ইসলাম এবং খেলাফত আন্দোলনকে দুটি করে আসন ছেড়েছে। এ দলগুলো আসন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া জাগপা এবং বিডিপিকে একটি করে আসন ছাড়ে জামায়াত।

নির্বাচনে ভোটের লড়াইয়ে জামায়াতের কাছে ৫০টি আসন চেয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে জোটগত সিদ্ধান্তের আলোকে শেষ পর্যন্ত ৩০ আসনে সমঝোতা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ আসন চূড়ান্ত হয়েছে বলে এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা নিশ্চিত করেছেন। পরে জোটে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ও এলডিপিও যুক্ত হয়। তবে তাদের মধ্যে থেকে অভিযোগ প্রকাশ করতে দেখা যায়নি।

উল্লেখ্য, ১১ দলীয় জোটের শরিক দলগুলো হচ্ছে- জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, এনসিপি, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম, ডেভেলপমেন্ট পার্টি, খেলাফত আন্দোলন, জাগপা, এবি পার্টি ও এলডিপি।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com