

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে নিজের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন মামলার মূল আসামি ফয়সাল, যা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ফয়সালের এ সংক্রান্ত দুটি ভিডিও বার্তা এখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।
গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি। ডিআরইউর শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘এ-ফোর বসুন্ধরা পেপার ক্র্যাব বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’ শীর্ষক ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএমপি কমিশনার।
হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি ফয়সালের ভিডিও বার্তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ভিডিওটি আমরা পেয়েছি এবং সেটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হওয়ার পর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হবে। তবে তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি শেখ মো. সাজ্জাত আলী।
এদিকে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে পুলিশের বর্তমান প্রধান অগ্রাধিকার (টপ প্রায়োরিটি) হিসেবে উল্লেখ করেন ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, জানুয়ারি মাসের ২১ বা ২২ তারিখ থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু হতে পারে। তখনই মূল জটিলতা তৈরির সম্ভাবনা থাকে। আমরা নিরপেক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে চাই এবং আগামী ৪০ দিন আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।
নির্বাচনে প্রার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি জানান, কোনো প্রার্থীর জীবনের ঝুঁকি কতটা, তা স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) মাধ্যমে যাচাই করা হয়। ঝুঁকি নিশ্চিত হলে তবেই গানম্যান দেওয়া হচ্ছে। ইতোপূর্বে বেশ কয়েকজনকে গানম্যান দেওয়া হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনারদের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। এ সময় ঢাকার রাজপথে
ঘন ঘন অবরোধ ও জনদুর্ভোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সাজ্জাত আলী। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর ২০২৫ সালটিও বেশ উত্তাল ছিল। বিভিন্ন গোষ্ঠীর দাবিদাওয়া নিয়ে রাস্তা ব্লক করার ফলে সাধারণ মানুষ ও রোগীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। এই সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসা জরুরি।
এদিকে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদিকে খুন করতেই ফয়সালকে জামিনে বের করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমা। গতকাল শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান।
ফাতিমা তাসনিম জুমা ফেসবুক পোস্টে জানান, ‘এই (হাদি) খুনের জন্যই ফয়সালকে জামিনে বের করা হয়েছিল। সরকারের কে এই জামিনের জন্য তদবির করেছিল? কোন জজ এই রায় দিয়েছিল? সে কার রিক্রুট করা? কোন আইনজীবী জামিন করিয়েছে? কার চ্যানেলে সে ইনকিলাবে এসেছিল? কবির নামে যাকে গ্রেপ্তার করা হলো, তিনি সেন্টারে যেদিন প্রথম অ্যাটেম্পট নেয়, সেদিন ফয়সালের সঙ্গে ছিল। ফয়সাল ছাড়া তার কাছেও লিড থাকার হাই চান্স আছে। তবুও কেন মামলার অগ্রগতি নেই? নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না বলা হচ্ছে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা জাতির সামনে উন্মুক্ত করলে অনেক জট খুলে যায়।