

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ রবিবার শেষ হচ্ছে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বাছাইয়ে বাদ পড়া প্রার্থীদের আপিল শুনানি। মঙ্গলবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন, এরপর বুধবার নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করবে। প্রতীক বরাদ্দের পর বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হবে নির্বাচনী প্রচার।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, গতকাল শনিবার ৮ম দিনে আপিল শুনানিতে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছে ৪৪ জন, বাতিল ৩৭ জন ও অপেক্ষমাণ ১৯টি। ৯টি আবেদন প্রত্যাহার ও দুজন আবেদনকারী অনুপস্থিত। এই নিয়ে আট দিনে ৩৯৯ প্রার্থী ভোটে ফিরলেন। অন্যদিকে আপিলে হেরে গেছেন ১৭৩ জন। এ পর্যন্ত ৬২২ আপিলের ওপর শুনানি সম্পন্ন করেছে ইসি। আজ শেষ দিনে অবশিষ্ট ২৩টি আবেদন এবং অপেক্ষমাণ প্রার্থীদের শুনানি হবে।
একই দিনে কুমিল্লা-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তা তাকে বৈধ ঘোষণা করেছিলেন, তবে জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ আপিলে অভিযোগ করেছিলেন, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ঋণখেলাপি হওয়ার তথ্য গোপন করে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ইসির শুনানির পর মঞ্জুরুলের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিবন্ধিত ৫১টি রাজনৈতিক দলের প্রায় ২,০৯০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। বাছাইয়ে ৭২৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে ৬৪৫টি আপিল জমা পড়ে। আপিল বাতিলের প্রধান কারণ ছিল স্বতন্ত্র প্রার্থীদের স্বাক্ষর স্বল্পতা, দ্বৈচয়নের কারণে ভোটার শনাক্ত না হওয়া, সার্টিফিকেট বা রিটার্ন কপি দাখিল না করা, হলফনামায় ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর না থাকা ইত্যাদি।
ইসি ৫ জানুয়ারি থেকে আপিল গ্রহণ শুরু করে ৯ জানুয়ারি শেষ করে। শুনানি ১০ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়। প্রথম ৮ দিনে ৩৯৯ জন প্রার্থী আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। রবিবার ১৮ জানুয়ারি শেষদিনে ৫৬১ থেকে অবশিষ্ট সব আপিলের শুনানি করবে নির্বাচন কমিশন। ফলাফল মনিটরে প্রদর্শিত হবে, ই-মেইলে পিডিএফ পাঠানো হবে এবং নির্বাচন ভবনের অভ্যর্থনা ডেস্ক থেকেও অনুলিপি পাওয়া যাবে।
এর আগে ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫৬১টি আপিল জমা পড়ে, যার মধ্যে ২৭৫ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছিলেন। তখনও অনেক প্রার্থী উচ্চ আদালতে রিট করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন।