বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:২৬ অপরাহ্ন

সিডনিতে হাঙরের তাণ্ডব, মৃত্যুর মুখে ২ তরুণ

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪২ বার

অস্ট্রেলিয়ার পর্যটন নগরী সিডনির বিভিন্ন সমুদ্রসৈকতে একের পর এক হাঙরের হামলার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মাত্র ২৬ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক তিনটি হামলায় আতঙ্ক ছড়িয়ে সিডনিতে। এ ঘটনায় সব সৈকত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে জানায়, প্রথম হামলার ঘটনা ঘটে স্থানীয় সময় রোববার বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে। দ্বিতীয়টি সোমবার দুপুরের ঠিক আগে আর তৃতীয় হামলাটি সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের দিকে।

পুলিশ জানিয়েছে, রোববার সিডনি হারবারে বন্ধুদের সঙ্গে পানিতে নামার পর ১২ বছরের এক কিশোর হাঙরের আক্রমণের শিকার হয়। বন্ধুরা দ্রুত তাকে পানি থেকে তুলে তীরে নিয়ে আসে। পরে তাকে গুরুতর অবস্থায় সিডনি চিলড্রেনস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ওই কিশোর ‘মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে’।

নিউসাউথ ওয়েলস পুলিশ মেরিন এরিয়া কমান্ডের কমান্ডার সুপারিনটেনডেন্ট জোসেফ ম্যাকনাল্টি সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সময় পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ। সম্ভবত একটি বুল শার্ক ছেলেটির পায়ের অংশে আক্রমণ করে।

তিনি কিশোরটির বন্ধুদের সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেন, বন্ধুরা যেভাবে তাকে টেনে তুলে ওপর এনেছে, তা নিঃসন্দেহে অসাধারণ সাহসের পরিচয়।

ম্যাকনাল্টি আরও জানান, কিশোর ও তার বন্ধুরা একটি ছয় মিটার (২০ ফুট) উঁচু পাথর থেকে পানিতে ঝাঁপ দিচ্ছিল। ভারি বৃষ্টির কারণে লবণাক্ত ও মিঠা পানির মিশ্রণ (ব্র্যাকিশ পানি) তৈরি হয়েছিল। যা হাঙরকে তীরের কাছাকাছি খাবারের সন্ধানে টেনে আনতে পারে।

তিনি বলেন, বৃষ্টির পানি, অতিরিক্ত লাফালাফিতে ঘোলাতে হয়ে যাওয়ার পানি— সব মিলিয়ে হাঙরের হামলার জন্য একধরনের ‘পরিবেশ’ তৈরি হয়েছিল।

অচেতন অবস্থায় কিশোরটিকে উদ্ধার করে জরুরি সেবাকর্মীরা তার দুই পায়ে টুর্নিকেট বেঁধে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ বন্ধ করেন। এরপর পুলিশের নৌকায় করে তাকে তীরে আনা হয়। এ সময় পুলিশ সদস্যরা সিপিআরও দেন। তীরে অপেক্ষমাণ অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এনএসডব্লিউ অ্যাম্বুলেন্সের কর্মকর্তা গাইলস বুকানান বলেন, ছেলেটি যখন আমাদের কাছে পৌঁছায়, তখন খুবই খারাপ পরিস্থিতি ছিল। পুরো সময়টাই ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

প্রথম ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সিডনির উত্তরের ডি হোয়াই পয়েন্ট এলাকায় ১১ বছরের এক শিশু সার্ফিং করার সময় হাঙরের আক্রমণের মুখে পড়ে।

নর্দার্ন বিচেস কাউন্সিল জানায়, হাঙরটি তার সার্ফবোর্ডের প্রায় ১৫ সেন্টিমিটার (ছয় ইঞ্চি) অংশে কামড় দিলেও শিশুটি শারীরিকভাবে অক্ষত থাকে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটিও বুল শার্কের কামড়।

এর কয়েক ঘণ্টা পর সোমবার সন্ধ্যায় ম্যানলি এলাকার নর্থ স্টেইন বিচে ২৫ বছর বয়সী এক যুবক হাঙরের হামলায় গুরুতরভাবে আহত হন।

পুলিশ জানায়, তার পায়ে মারাত্মক জখম হয়েছে। ঘটনাস্থলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে রয়্যাল নর্থ শোর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

এই ঘটনার পর নর্দার্ন বিচেস এলাকার সব সৈকত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে।

ম্যানলি অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে পরিচিত সৈকতগুলোর একটি এবং প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ১০ লাখ পর্যটক এখানে আসেন।

নর্দার্ন বিচেস কাউন্সিল জানায়, বিপজ্জনক ঢেউ ও আবহাওয়ার কারণে পাম বিচ ছাড়া এলাকার সব সমুদ্রসৈকত আগে থেকেই সোমবার পর্যন্ত বন্ধ ছিল।

অস্ট্রেলিয়ায় হাঙরের হামলার চিত্র

অস্ট্রেলিয়ায় প্রতিবছর গড়ে প্রায় ২০টি হাঙরের আক্রমণের ঘটনা ঘটে। যার মধ্যে সাধারণত দুই থেকে তিনটি প্রাণঘাতী হয়।

গত নভেম্বর মাসে দেশটির পূর্বাঞ্চলের ক্রাউডি বে এলাকায় সুইজারল্যান্ডের দুই পর্যটক হাঙরের আক্রমণের শিকার হন। ওই ঘটনায় ২০ বছর বয়সী এক তরুণী নিহত হন।

তবে সিডনিতে হাঙরের হামলা অত্যন্ত বিরল। গত ৬০ বছরে শহরটিতে মাত্র তিনটি প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ গত সেপ্টেম্বরে সিডনির একটি সৈকতে সার্ফিং করার সময় ৫৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তি বড় হাঙরের আক্রমণে নিহত হন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com