শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন

ছুটছেন তৃণমূলে, আনছেন নতুনত্ব

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৪ বার

দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগের নির্বাসিত জীবন শেষে ফিরেই দেশের রাজনীতিতে আলোড়ন তুলেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একের পর এক অভিনব, সৃজনশীল ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যেনো পরিবর্তনের ঢেউ তুলছেন তিনি। বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার দেখানো পথেই হাঁটছেন তারেক রহমান। গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মাত্র এক মাসের মধ্যেই অনেক পদক্ষেপে নতুনত্বের ছাপ রেখে কেড়েছেন দেশবাসীর নজর। মা খালেদা জিয়ার সাম্প্রতিক মৃত্যুশোক কাটিয়ে সরাসরি নেমেছেন ভোটের মাঠে। একদম সাদামাটা ভঙ্গিমায় বাবা-মায়ের মতোই ছুটে চলেছেন তৃণমূলে। দিনরাত চষে বেড়াচ্ছেন মাঠ-ঘাটে। প্রতিপক্ষের নাম না নিয়েই যুক্তি দিয়ে করছেন ঘায়েল। সাবলীল ভঙ্গিমায় প্রভাবশালী দেশগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বর মতো রাষ্ট্রের নীতি নিয়ে নিজের ভাবনা ভাগাভাগি করছেন জনগণের সঙ্গে। হাসতে হাসতে উপস্থিত শ্রোতাদেরও মতামত নিচ্ছেন। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। সমাবেশের মঞ্চে সাধারণ মানুষকে ডেকে নিয়ে নিজের চেয়ারে বসাচ্ছেন। কিশোর, তরুণ কিংবা যুবক শুধু নয়, সব শ্রেণির মানুষের সঙ্গে করমর্দনের মাধ্যমে কুশল বিনিময় করছেন, যেমনটি অতীতে কখনো দেখা যায়নি দেশের রাজনীতির ময়দানে। মাঠের সমাবেশ আর ভার্চুয়াল নির্বাচনী প্রচারণায় নতুনত্ব ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় বদলে দিচ্ছেন মানুষের ধারণা। নিজেকে আবির্ভূত করছেন এক অন্য ‘তারেক রহমান’ রূপে। গতানুগতিক রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে গিয়ে তুলে ধরছেন ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রূপরেখা।

বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা আলাপকালে কালবেলাকে বলেন, বহু বছর যুক্তরাজ্যে নির্বাসনে থাকলেও তারেক রহমান দেশে ফিরে রাজনীতিতে শুধু নয়, নীতিনির্ধারণেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চান। এ লক্ষ্যে বহুমুখী পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন। এরই মধ্যে প্রথমবারের মতো দেশের কোনো রাজনীতিবিদের (তারেক রহমান) বক্তব্যের ধরন নিঃসন্দেহে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করেছে। তা ছাড়া রাস্তায় গাড়ির ভেতর থেকে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময়, মঞ্চে হেঁটে হেঁটে কথা বলা, জ্যেষ্ঠ নেতাদের যথাযথ সম্মান দেওয়া, জনগণের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের চেষ্টা, মাঝে মাঝে মজা কিংবা কৌতুক—এককথায় অসাধারণ এবং ইতিবাচক পরিবর্তন, যা শুধু একটি দলের জন্য নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্যও নতুন অভিজ্ঞতা।

এসব পরিবর্তন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রশংসায় ভাসছেন তারেক রহমান। এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় তার পরিবর্তনগুলো রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সাধারণ ভোটার—সবার মধ্যেই বিস্তর কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমান নিজেকে একজন পরিপক্ব হবু রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মনযোগ আকর্ষণে তার এ ‘নতুন স্টাইল’ এবং আধুনিক চিন্তাধারা ধানের শীষের পক্ষে বড় ঢেউ তৈরি করতে পারে। তবে তারেক রহমানের পরিবর্তনের বিষয়গুলো সবার আগে তার দলের নেতাকর্মী এবং অনুসারীদের ধারণ করতে হবে। তা না হলে সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করা অতটা সহজ হবে না। ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটকে সামনে রেখে তারেক রহমানের এ ধরনের পরিবর্তন বিএনপিকে কতটা জনসমর্থন এনে দেয়—এখন সেটাই দেখার বিষয়।

নির্বাচনী প্রচারণায় আনছেন নতুনত্ব: গতানুগতিক রাজনৈতিক প্রচারণার বাইরে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রচারণায় নতুনত্ব আনছেন তারেক রহমান। তার নির্বাচনী বহরে ব্যবহার করা হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তির বুলেটপ্রুফ বাস ও জিপ এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। একই সঙ্গে ডিজিটাল স্ক্রিন ও সোশ্যাল মিডিয়া লাইভের মাধ্যমে মুহূর্তেই তার বার্তা পৌঁছে যাচ্ছে দেশের প্রান্তিক মানুষের কাছে। শুধু মাঠের জনসভায় বক্তৃতা নয়, ডিজিটাল মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। তরুণ প্রজন্ম কেমন বাংলাদেশ চায়, সে বিষয়ে একটি রিলস তৈরির প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল বিএনপি। এক কথায় সবদিক বিবেচনায় নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে বিএনপি। গত বৃহস্পতিবার সিলেট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এরপর পর্যায়ক্রমে কয়েকটি জেলায় নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন এবং গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন। সিলেটে প্রথমে হযরত শাহজালাল ও মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীর মাজার জিয়ারত করেন এবং নফল নামাজ আদায় করেন। এরপর বিভিন্ন পেশার মানুষ ও তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিদের নিয়ে ‘পালিসি ডায়ালগে’ নিজের ভাবনা তুলে ধরেন এবং তরুণ প্রজন্মের মতামত শোনেন। বিভিন্ন গণসংযোগ ও জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যানের এই ‘নতুন রূপ’ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

তারেক রহমান কেবল মঞ্চে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিচ্ছেন না, বরং তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সরাসরি প্রশ্নোত্তরে অংশ নিচ্ছেন। নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে বিভিন্ন জেলার মেডিকেল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলছেন। পেশাজীবীদের অভাব-অভিযোগ সরাসরি শুনে তাৎক্ষণিক সমাধান বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানাচ্ছেন, যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগে খুব একটা দেখা যায়নি।

দীর্ঘ নির্বাসন এবং দলের নেতাকর্মীদের ওপর বয়ে যাওয়া ঝড়ের পরেও তারেক রহমানের বক্তব্যে কোনো তিক্ততা বা প্রতিহিংসার সুর নেই। তার সাম্প্রতিক ভাষণে তিনি বারবার বলছেন, ‘বিগত সময়ের কষ্ট যেন আমাদের তিক্ত না করে। আমাদের লক্ষ্য এখন প্রতিহিংসা নয়, বরং জাতীয় ঐক্য।’ তিনি সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজেকে একজন উদারপন্থি নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, তারেক রহমানের এবারের প্রচারণা অনেকটা পশ্চিমের দেশগুলোর মতো ‘পলিসি-বেইজড’। তিনি বেকারত্ব দূর করতে কারিগরি শিক্ষা, দক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠানো এবং কৃষির উন্নয়নে ‘খাল খনন’ কর্মসূচির আধুনিক সংস্করণ নিয়ে কথা বলছেন। মসজিদের ইমাম-খতিবদের জন্য সম্মানজনক ভাতা এবং সামাজিক মর্যাদার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরছেন তিনি। তাছাড়া প্রচারণা শুরুর দিন থেকেই তিনি ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। প্রকাশ্যে নাম না নিলেও জামায়াতে ইসলামীসহ ধর্মভিত্তিক দলগুলোর রাজনৈতিক কৌশলের সমালোচনা করে বক্তব্য দিচ্ছেন। তার মতে—ধর্ম মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাসের জায়গা, একে ভোটের হাতিয়ার করা উচিত নয়।

এক মাসে যত পরিবর্তন : বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর দাবি, তারেক রহমান আর আগের তারেক রহমান নেই। তিনি দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে যুক্তরাজ্যে থাকায় অনেক বিষয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছেন, যা নিজের জীবনে প্রয়োগের পাশাপাশি জাতীয় জীবনেও প্রয়োগ করতে চান। জানা গেছে, গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত জীবনের সর্বশেষ আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন তারেক রহমান। তিনি সেদিন তাকে নিয়ে কোনো ধরনের স্লোগান না দেওয়ার আহ্বান জানান এবং স্লোগান বন্ধ করতে বলেন। তিনি জানান যে, এ ধরনের স্লোগান তিনি পছন্দ করেন না। এর পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে বিমানবন্দরে নেমে খালি পায়ে মাটি স্পর্শ করেন। সেখান থেকে নিজের জন্য বুলেটপ্রুফ জিপে না চড়ে বড় বাসে উঠে সিনিয়র নেতাদের নিয়ে ৩০০ ফুটে যান। সেখানে মঞ্চে রাখা বিশেষ চেয়ার সরিয়ে সাধারণ কাঠের চেয়ারে বসে উদাহরণ তৈরি করেন তারেক রহমান। এমনকি ওই এলাকায় লোকসমাগমের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে নতুনভাবে বৃক্ষরোপণ ও পরদিন পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারপর গত ২ জানুয়ারি সারা দেশে সব ব্যানার-পোস্টার তিন দিনের মধ্যে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন তারেক রহমান।

গত ৯ জানুয়ারি জুমার নামাজের পর তারেক রহমান গুলশানের বাসা থেকে হেঁটে গুলশানে দলীয় চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে যান। এরপর গত ১০ জানুয়ারি রাজধানীর বনানীতে শেরাটন হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে মঞ্চের সামনে ছিল নিরাপত্তা বেষ্টনী। তবে তারেক রহমান তা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিলে সেটি তাৎক্ষণিকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়। এমনকি একই অনুষ্ঠানে একজন সাংবাদিক তারেক রহমানকে ‘মাননীয়’ বলে সম্বোধন করলে তিনি মঞ্চে থেকেই হাত উঁচিয়ে ওই সাংবাদিকের উদ্দেশে বলেন, ‘প্লিজ আমার নামের আগে মাননীয় শব্দটি ব্যবহার করবেন না।’ এ ছাড়া গত ১৪ জানুয়ারি তারেক রহমান ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে মেডিকেল (ডেন্টাল) ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকারী জাহাঙ্গীর আলম শান্তকে তার কার্যালয়ে ডেকে আনেন এবং অভিনন্দন জানিয়ে বই উপহার দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী কালবেলা বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দেখানো পথেই বাংলাদেশের গণতন্ত্র সমুন্নত থাকবে। আর মায়ের দেখানো পথ ধরেই তারেক রহমান দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। খালেদা জিয়ার যে আদর্শ ও নৈতিকতা, যে অঙ্গীকার জনগণের কাছে দিয়েছিলেন, তার রেখে যাওয়া আদর্শ এত উঁচু মাত্রার নৈতিক বৈশিষ্ট্য ধারণ করে যে, আমরা সেই পথ ধরে, তার দেখার পথ ধরেই এগিয়ে যাব। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার মা খালেদা জিয়ার অর্থাৎ তার মায়ের প্রদর্শিত পথ ধরেই দেশকে পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। এরই মধ্যে রাজনীতিতে তারেক রহমানের দৃশ্যমান পরিবর্তন আপনারা লক্ষ্য করছেন।’

তারেক রহমানের নতুনত্ব ও পরিবর্তন প্রসঙ্গে বিএনপির গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান কালবেলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশে আর কোনো বড় রাজনৈতিক নেতার ক্ষেত্রে কি এমন দৃশ্য কল্পনা করা যায়? বিশেষ করে একটি দলের শীর্ষ নেতৃত্বে থেকে? তারেক রহমান ধীরে ধীরে তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা আপসহীন দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে কোথাও কোথাও ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। প্রমাণ করতে শুরু করেছেন তিনি গণমানুষের নেতা। তার কথাবার্তায় নেই সেই চেনা রাজনৈতিক কৃত্রিমতা। নেই বড় বড় স্লোগানের বন্যা। নেই হুমকি-ধমকি। বাংলাদেশের রাজনৈতিক মঞ্চে যে প্রচলিত বক্তৃতার স্টাইল বহুদিন ধরে চলে আসছে, তার ধারে কাছেও যাচ্ছেন না তিনি। এজন্যই বলা হয় বাংলাদেশের জন্য অনিবার্য নেতৃত্ব তারেক রহমান।’

বিএনপি চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু কালবেলাকে বলেন, ‘তারেক রহমান দেশে ফিরে যে পরিবর্তনের রাজনীতি, সংলাপভিত্তিক বক্তব্য আর মানবিক উপস্থিতির রাজনীতি শুরু করেছেন, সেটি হয়তো দ্রুত স্থায়ী রূপ নিতে পারে। দীর্ঘ নির্বাসন শুধু একজন রাজনীতিককে দূরে সরিয়ে রাখেনি, কখনো কখনো তাকে নতুনভাবে গড়ে তোলে। নতুন রূপে আবির্ভূত করেছে। তারেক রহমানের ক্ষেত্রে ঠিক সেটাই ঘটতে যাচ্ছে। তারেক রহমানের হাত ধরেই নতুন কিছুর প্রত্যাশায় বাংলাদেশ।’

বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মতোই তারেক রহমান নির্বাচনী প্রচারে তরুণদের মধ্যে স্বপ্ন জাগিয়ে তুলছেন উল্লেখ করে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান কালবেলাকে বলেন, ‘যা আগামীতে কল্যাণকর বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এরই মধ্যে তিনি যেসব পরিবর্তন এনেছেন তাতে বলা যায় যে, বহুদলীয় গণতন্ত্রের মানসপুত্র তারেক রহমান।’

কাল যাচ্ছেন চট্টগ্রাম: নির্বাচনী প্রচারের তৃতীয় কর্মসূচি হিসেবে আগামীকাল রোববার সকালে চট্টগ্রাম যাচ্ছেন তারেক রহমান। কাল সকাল সাড়ে ৯টায় হোটেল র্যাডিসনে ‘পলিসি ডায়ালগ’-এ বক্তব্য দেবেন। এরপর সকাল ১১টায় পলোগ্রাউন্ড ময়দানে সমাবেশে বক্তব্য দেবেন। এরপর পর্যায়ক্রমে ফেনী পাইলট কলেজ মাঠ, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লার সুয়াগাজী ও দাউদকান্দি এবং সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর বালুর মাঠে সমাবেশে বক্তব্য দেবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. স ম আলী রেজা কালবেলাকে বলেন, ‘তারেক রহমান যেটা করতে চেষ্টা করছেন এটা ভালো। তার সবই জনগণবান্ধব। এটাই একজন পলিটিক্যাল লিডারের স্টাইল, যা আমরা দীর্ঘদিন পাইও নাই। তা ছাড়া দীর্ঘদিন একটা নারী নেতৃত্বের ভেতরে ছিলাম। অনেকদিন পরে তারেক রহমান একটা পরিবর্তনের যে আবহ তৈরির চেষ্টা করছেন, এটা ওয়েলকামিং এবং এটা পরিবর্তনের জন্য, যা খুবই ইতিবাচক। তবে চ্যালেঞ্জের জায়গাটা হলো তিনি কিন্তু পুরোনো একটা কাঠামোর মধ্যে থেকেই পরিবর্তনটা আনতে চাচ্ছেন।’

অধ্যাপক আলী রেজা বলেন, ‘এখানে স্টেকহোল্ডার কিন্তু তিনি একা নন। এখানে বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থক, সাধারণ মানুষ আছেন। ফলে এটাকে কেউ কেউ বিশেষ করে প্রতিপক্ষ সমালোচনাও করবে একটু নেতিবাচকভাবে নেবে। এমন অবস্থায় এখানে খুব জরুরি হলো—তারেক রহমানের এই পরিবর্তনের আহ্বানটা বিশেষ করে তার দলের নেতাকর্মীরা যদি ধারণ ও প্রচার করেন, তাহলে খুব ভালো কাজ দেবে। কারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার বিষয় আছে। যেটা বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তার মা খালেদা জিয়াও করে গেছেন। তবে তরুণ প্রজন্ম কীভাবে নেবে, সে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com