

লজ্জা মুসলিম চরিত্রের অনন্য বৈশিষ্ট্য। লজ্জাশীলতার মাধ্যমে একজন মুসলমানের ইমান পরিমাপ করা যায়। যে নির্দ্বিধায় লজ্জাজনক কাজ করে যায় এবং নিজের বেহায়াপনা বা অশ্লীলতার জন্য সামান্যও অনুতপ্ত হয় না, বুঝতে হবে তার ইমানে বড় ধরনের কোনো ত্রুটি রয়েছে। অপর দিকে এমন ব্যক্তি রয়েছেন, যার দ্বারা কোনো লজ্জাজনক কাজ সংঘটিত হলে, সঙ্গে সঙ্গে ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয়ে মুখ লুকায় এবং বিবেকের কশাঘাতে জর্জরিত হয়। তখন বুঝতে হবে তার ইমান জীবিত আছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘লজ্জা ইমানের অঙ্গ। আর ইমানের স্থান বেহেশত। অপরদিকে অকথ্য গালিগালাজ জুলুমের অন্তর্ভুক্ত। আর জুলুমের স্থান দোজখ।’ (আহমাদ)
লজ্জা মুমিনের ভূষণ। এটি মুমিনের চারিত্রিক সৌন্দর্যকে সুশোভিত করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) লাজুক, নম্র-ভদ্র, সহনশীল ও কর্তব্যপরায়ণ ছিলেন। হজরত আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) কুমারী মেয়েদের চেয়েও অধিকতর লজ্জাশীল ছিলেন। তিনি যখনই কোনো লজ্জাজনক কাজের সম্মুখীন হতেন, তার মুখ রক্তিমবর্ণ ধারণ করত। রাসুল (সা.) বলেছেন, লজ্জা ও ইমান অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। যখন একটির অভাব ঘটে, তখন অন্যটিও বিলুপ্তির পথ ধরে। লজ্জাহীন ব্যক্তির চরিত্র হয় অশ্লীল। সমাজের এমন হীন কাজ নেই যা সে করতে পারে না। এ ধরনের ব্যক্তি সাধারণত ফাসেক, পাপিষ্ঠ, কদাচারী ও দুর্নীতিপরায়ণ হয়। লজ্জাহীনতা তার আচরণকে করে উদ্যত, স্বভাব হয়ে ওঠে রুক্ষ, মেজাজের ভারসাম্য হারিয়ে সামাজিক জীবন যাপনে বেপরোয়া, উন্মাদ, পরশ্রীকাতর, পরধনে লোভী ও দুর্নীতিবাজ, এক কথায় উন্মাদ ব্যক্তিতে পরিণত হয়। তাদের আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, তারা সাধারণত মিথ্যাবাদী হয়ে থাকে। মিথ্যাই তাদের প্রধান পুঁজি হিসেবে কাজ করে। এ রকম নির্লজ্জ ব্যক্তি সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য অশান্তি ও বিপর্যয়ের জন্য যথেষ্ট কারণ হয়ে দাঁড়ায়। রাসুল (সা.)-এর একটি হাদিস থেকে লজ্জাহীন ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায়।
লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক ও সাংবাদিক