বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:২৮ পূর্বাহ্ন

দুইটিতে বিএনপি এগিয়ে, ২টিতে লড়াইয়ের আভাস

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৩ বার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই জমে উঠছে কক্সবাজারের চারটি আসনের নির্বাচনী লড়াই। বাজারঘাট, মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, জেলেপল্লী, উপকূলীয় এলাকা কিংবা চায়ের আড্ডা- সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। কোন আসনে কে বিজয়ী হচ্ছেন, তা নিয়ে সর্বত্র চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থীরা কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি প্রচারে সক্রিয় প্রার্থীদের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরাও। সব মিলিয়ে কক্সবাজারজুড়ে এখন উৎসবমুখর নির্বাচনী আমেজ। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াত জোট পৃথকভাবে নিজ নিজ প্রার্থী ঘোষণা করার পর চারটি আসনেই নির্বাচন নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে।

ইতোমধ্যে প্রকাশিত নতুন ভোটার তালিকা অনুযায়ী, কক্সবাজারের চারটি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৮ লাখ ৪৯ হাজার ৩৫৭ জন। আগের নির্বাচনে এই সংখ্যা ছিল ১৬ লাখ ৫০ হাজার ৯৬০ জন। অর্থাৎ এবার ভোটার বেড়েছে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৩৯৭ জন।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত, সীমান্ত বাণিজ্য, গভীর সমুদ্র বন্দর, সোনাদিয়া দ্বীপ, প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন, বিশ্বের সর্ববৃহৎ রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্র, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, অর্থনৈতিক অঞ্চল, এলএনজি টার্মিনাল, এসপিএম প্রকল্প, কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, মেরিন ড্রাইভ সড়ক এবং সাগর-সৈকত-বালিয়াড়িতে ঘেরা বিশ্বের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র- এতসব কৌশলগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্বের কারণে সীমান্তবর্তী জেলা কক্সবাজার জাতীয় রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ভবিষ্যতের সমুদ্রকেন্দ্রিক অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কক্সবাজারকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোও বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কক্সবাজারের চারটি আসনের মধ্যে দুটিতে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও বাকি দুই আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া)

জাতীয় সংসদের ২৯৪ নম্বর এই আসনটি চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত। এবারে এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৪০ হাজার ৪৬৮ জন। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি নিজে তিনবার এবং তার স্ত্রী অ্যাডভোকেট হাসিনা আহমেদ একবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৯১ সালের পর চারবার এ আসনটি বিএনপির দখলে ছিল।

সালাহউদ্দিন আহমেদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার কারণে এই আসনে বিএনপি এগিয়ে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে জামায়াতও এটিকে নিজেদের পুরনো আসন দাবি করে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জামায়াতের প্রার্থী কক্সবাজার শহর জামায়াতের আমির আবদুল্লাহ আল ফারুক। ছাত্রজীবনে শিবিরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা আবদুল্লাহ আল ফারুকের এটি প্রথম সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ।

অভিজ্ঞ ও জাতীয় পর্যায়ের নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদের বিপরীতে জামায়াতের নতুন প্রার্থী কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারবেন, সেটিই এখন এই আসনের মূল আলোচনার বিষয়।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এই এলাকার মানুষের জন্যই আমি রাজনীতি করি। আমার অনুপস্থিতিতেও মানুষ তাদের পুত্রবধূকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছে। এবার নির্বাচিত হয়ে অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করতে চাই। মানুষের দোয়া ও ভালোবাসাতেই আমি মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছি।’

অন্যদিকে জামায়াতপ্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক বলেন, ‘আমি নতুন হলেও মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। সর্বত্র উৎসাহ পাচ্ছি, এটাই আমার শক্তি।’

কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া)

জাতীয় সংসদের ২৯৫ নম্বর এই আসনটি মহেশখালী ও কুতুবদিয়া- এই দুটি দ্বীপ উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৮৪০ জন। মাতারবাড়ির গভীর সমুদ্রবন্দর, ধলঘাটা অর্থনৈতিক অঞ্চল, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, এলএনজি টার্মিনাল, এসপিএম প্রকল্প এবং সোনাদিয়া ও কুতুবদিয়ার মতো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত দ্বীপের কারণে এই আসন আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ‘সুনীল অর্থনীতি’র সম্ভাবনাও এই অঞ্চলকে বাড়তি গুরুত্ব দিয়েছে।

এ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য আলমগীর মো. মাহফুজুল্লাহ ফরিদ এবং জামায়াতের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা জিয়াউল হকও নিয়মিত প্রচার চালাচ্ছেন।

তবে মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এখানে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও)

জাতীয় সংসদের ২৯৬ নম্বর এই আসনে ভোটার ৫ লাখ ৪৫ হাজার ৪৩৫ জন। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির মৎস্যজীবীবিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান কাজল। পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে এলাকায় তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে এবং রয়েছে নিজস্ব ভোটব্যাংক।

জামায়াতের প্রার্থী সাবেক ককসু ভিপি ও কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শহিদুল আলম বাহাদুর। সংসদ নির্বাচনে নতুন হলেও দলীয় প্রচারে জামায়াত এখানে সক্রিয়।

বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় প্রভাব ও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার কারণে লুৎফুর রহমান কাজল এই আসনে এগিয়ে থাকলেও জামায়াত শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালাবে।

কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ)

জাতীয় সংসদের ২৯৭ নম্বর এই আসনটি বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলা নিয়ে গঠিত। বিএনপির প্রার্থী সাবেক হুইপ ও কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী। পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে এলাকায় তার সুনাম রয়েছে।

জামায়াতের প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমির ও টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের চারবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী। সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার অংশ নিলেও মাঠে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন তিনি। টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের চারবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি।

এই আসনে রয়েছে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্প, যেখানে প্রায় ১৫ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে। নানা কারণে আলোচিত এই এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত উভয় দলেরই শক্ত অবস্থান রয়েছে। ডানপন্থি ভোটার বেশি হওয়ায় উভয় দলই আসনটিকে নিজেদের শক্ত ঘাঁটি বলে দাবি করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনেও বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে যাচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com