

দেশজুড়ে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ হয় ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে। জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি এবারই প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয় গণভোট, যা ভোটারদের আগ্রহ ও অংশগ্রহণে নতুন মাত্রা যোগ করে।
নিবন্ধিত ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল নির্বাচনে অংশ নেয়। তবে ফলাফলে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণ। অংশ নেওয়া ৫১ দলের মধ্যে ৪২টি দল কোনো আসনেই জয় পায়নি। বিপরীতে, মাত্র ৯টি দল সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে।
এখন পর্যন্ত ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৯৭টির ফল প্রকাশ করা হয়েছে। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পেয়েছে ২০৯টি আসন। জামায়াতে ইসলামী জয়ী হয়েছে ৬৮টি আসনে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ৬টি আসন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি এবং গণসংহতি আন্দোলন- প্রতিটি দল একটি করে আসনে জয় পেয়েছে। খেলাফত মজলিস পেয়েছে দুটি আসন। ফলাফল প্রকাশে কিছু আইনি জটিলতাও রয়েছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব জানিয়েছেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪
আসনের ফলাফল আপাতত গেজেট আকারে প্রকাশ করা যাচ্ছে না। এ ছাড়া একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনে ভোটগ্রহণ পরবর্তী সময় অনুষ্ঠিত হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে বড় দলকেন্দ্রিক মেরুকরণ ছিল অত্যন্ত প্রবল। জোটভিত্তিক কৌশল, কৌশলগত ভোটিং এবং ‘জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা’ বিবেচনায় ভোট দেওয়ার প্রবণতা ছোট ও নতুন দলগুলোর জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অনেক দল শতাধিক আসনে প্রার্থী দিলেও শেষ পর্যন্ত সংসদে প্রবেশ করতে পারেনি।
ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব সীমিত থাকছে কয়েকটি বড় দল ও অল্পসংখ্যক মাঝারি দলের মধ্যে। ৪২টি দলের জন্য এবারের নির্বাচন হয়ে রইল প্রত্যাশা ভঙ্গের অধ্যায়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনীতিতে শক্তিশালী মেরুকরণের বাস্তবতা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠল।