

২৩ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের একটি মামলায় এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত করোনার নমুনা পরীক্ষায় জালিয়াতিতে আলোচিত রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ করিমকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত ।আজ রোববার ঢাকার তৃতীয় যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আরিফুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ দবির উদ্দিন বলেন,”গত ৩ মে আসামির অনুপস্থিতিতে আদালত এ মামলায় এক বছরের কারাদণ্ড ও ২৩ লাখ ১৮ হাজার ৩৫৮ টাকা অর্থদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পর সাজা পরোয়ানা জারি করে আদালত। ওই সাজা পরোয়ানায় রোববার তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আসামি সাহেদের বিরুদ্ধে ৩৫ মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়— ২০২০ সালের ২৬ জুলাই বাহার ট্রেডার্স ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী হাফিজ উদ্দিন বাহার সাহেদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ২৩ লাখ ১৮ হাজার ৩৫৮ টাকার চেক ডিজঅনারের অভিযোগ আনা হয়।অভিযোগে আরও বলা হয়, বাদীর কাছ থেকে বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী কেনার জন্য আসামির সঙ্গে চুক্তি হয়। প্রথমে কিছু টাকা নগদ পরিশোধ করলেও পরে তিনি চেকের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করতেন। নির্মাণসামগ্রীর মূল্য বাবদ আসামি ২০১৯ সালের ১০ ডিসেম্বর উত্তরা ব্যাংকের বংশাল থানার নবাবপুর শাখার একটি চেক দেন।
২০২০ সালের ৫ মে বাদী চেকটি নগদায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে উপস্থাপন করলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় তা ফেরত দেয়। একই বছরের ২ জুন বাদী আসামিকে চেকের সমপরিমাণ অর্থ পরিশোধের জন্য এক মাসের সময় দিয়ে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। তবে ওই সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ করেননি সাহেদ।গেল ২০ জুলাই সকালে রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকা থেকে সাহেদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওইদিনই জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
২৭ জুলাই তাকে এনআরবি ব্যাংকের ঋণ খেলাপির দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এক কোটি টাকার বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী গ্রহণ ও সেই টাকা পরিশোধ না করে প্রতারণার অভিযোগে করা এক মামলায় গত বৃহস্পতিবার ১০ দিনের জামিন পান সাহেদ। তবে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার থাকায় তিনি কারামুক্ত হতে পারেননি।