শুক্রবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৪, ০১:৩২ পূর্বাহ্ন

সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলার বিচার স্থগিত ১৬ বছর

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১৯
  • ৩৩০ বার

প্রায় ২১ বছর আগে চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী খুন হন। ওই ঘটনার মামলায় ২০০১ সালে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠনের পর বিচার আর একচুলও এগোয়নি। ফলে বিতর্কিত ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই ওরফে আবদুল আজিজসহ ৯ আসামির বিরুদ্ধে বিচার ১৬ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে ন্যায়বিচারবঞ্চিত চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরীর পরিবার।

মামলার এক আসামির রিটে ২০০৩ সালে এ মামলার কার্যক্রমের ওপর হাইকোর্ট স্থগিত আদেশ দেওয়ায় তা গত ১৬ বছরেও প্রত্যাহার না হওয়ায় বহুল আলোচিত মামলার নথি ঢাকার ২ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আলমারিবন্দি রয়েছে।

১৯৯৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর বনানীর ১৭ নম্বর রোডের আবেদীন টাওয়ারের বহুল আলোচিত ট্রামস ক্লাবে সোহেল চৌধুরীকে গুলিতে হত্যা করে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন ও তার সহযোগীরা। হত্যাকা-ের নির্দেশ দেন আজিজ মোহাম্মদ ভাই। ঘটনার দিনই নিহতের ভাই তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী গুলশান থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার এজাহারে শুধু আদনান সিদ্দিকীকে আসামি করা হয়।

১৯৯৯ সালের ৩০ জুলাই ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার আবুল কাশেম ব্যাপারী এজাহারনামীয় আসামি আদনান সিদ্দিকীসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটের অপর আসামিরা হলেন ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই ওরফে আবদুল আজিজ, ট্রামস ক্লাবের মালিক আফাকুল ইসলাম ওরফে বান্টি ইসলাম, শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাঈদ মামুন, সেলিম খান, হারুন অর রশীদ ওরফে লেদার লিটন ওরফে বস লিটন, ফারুক আব্বাসী, আশিষ রায়চৌধুরী ওরফে বোতল চৌধুরী ও শীর্ষসন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমন। আসামিদের মধ্যে সন্ত্রাসী ইমন কারাগারে এবং বোতল চৌধুরী পলাতক ও আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ সাত আসামি জামিনে আছেন।

২০০১ সালের ৩০ অক্টোবর ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন। এর পর ২০০৩ সালের মামলাটি বিচারে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ঢাকার ২ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। কিন্তু আসামিদের মধ্যে একজন হাইকোর্টে একটি রিট করেন, যার নম্বর ৭০৫৩/২০০৩। ওই রিটে হাইকোর্ট বিভাগের তৎকালীন বিচারপতি এমএ মতিন ও সৈয়দ রিফাত আহমদের বেঞ্চ ২০০৩ সালের ১৯ নভেম্বর প্রথমে ৩ মাসের জন্য মামলাটির নিম্ন আদালতের কার্যক্রম স্থগিত করেন। পরে ২০০৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি রিটের রুলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মামলাটির নিম্ন আদালতের কার্যক্রম স্থগিত করেন। কিন্তু গত ১৬ বছরে ওই রুলের নিষ্পত্তি না হওয়ায় নিম্ন আদালতে বিচার কার্যক্রম শুরু করা যায়নি।

এ সম্পর্কে ওই ট্রাইব্যুনালে স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর সৈয়দ শামছুল হক বাদল বলেন, মামলার কার্যক্রম স্থগিত প্রায় ১৬ বছর। এত দিন একটি মামলা স্থগিত থাকলে পরবর্তী সময়ে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হয়ে এলেও মামলার অভিযোগ প্রমাণ করতে অসুবিধা হয়। কারণ সাক্ষী মারা যেতে পারে, আলামত নষ্ট হয়ে যেতে পারে এবং সাক্ষীদের আগের ঠিকানায় না-ও পাওয়া যেতে পারে। তাই যত দ্রুত সম্ভব স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হওয়া প্রয়োজন। এ ব্যাপারে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

মামলার চার্জশিট বলছে, বনানী জামে মসজিদের পাশে আবেদীন টাওয়ারের অষ্টম তলায় ট্রামস ক্লাব অবস্থিত। এ ক্লাবের মালিক আসামি বান্টি ইসলাম ও বোতল চৌধুরী। ওই ক্লাবে অসামাজিক কার্যকলাপ হতো। বিশেষ করে নিয়মিত মদপান, নারীদের অশ্লীল নৃত্য চলত। ক্লাবের এ ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপের বিরোধিতা করেন সোহেল চৌধুরী। তিনি বনানীর মসজিদ কমিটির লোকজন নিয়ে এ ধরনের অসামাজিক কাজ বন্ধের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।

১৯৯৮ সালের ২৪ জুলাই ক্লাবের মধ্যে সোহেল চৌধুরীর কথিত এক বান্ধবী নিয়ে আসামি আজিজ মোহাম্মদের তর্ক হয়। উত্তেজিত হয়ে আজিজ ভাইকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন সোহেল। এ দুই ঘটনার পর আজিজ মোহাম্মদ ভাই নায়ক সোহেল চৌধুরীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। হত্যার দিন সোহেল চৌধুরী রাত ১টার দিকে বন্ধুদের নিয়ে ট্রামস ক্লাবে ঢোকার চেষ্টা করেন। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব) তোফাজ্জল হোসেন তাকে ঢুকতে না দেওয়ায় তিনি চলে যান। সেদিন রাত আড়াইটার পর সোহেল চৌধুরী ফের ক্লাবে ঢোকার চেষ্টা করলে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন, মামুন, লিটন, ফারুক আব্বাস ও আদনান সিদ্দিকী সোহেল চৌধুরীকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে ঘটনাস্থলে তিনি মারা যান। খুনের পর পরই আদনান সিদ্দিকী হাতেনাতে ধরা পড়ে পুলিশের হাতে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com