

বায়োসেফটি লেভেল-২ নিশ্চিত করে বুধবারের মধ্যে বিমানবন্দরের করোনা পরীক্ষার র্যাপিড আরটি পিসিআর ল্যাব স্থাপন করার সম্মতি দিয়েছে ঢাকাস্থ সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) দূতাবাস। একই সঙ্গে পরীক্ষামূলকভাবে ওয়ান ওয়ের ৫০ জন যাত্রীর বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষা করে দুবাই পাঠাতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে দূতাবাসটি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গতকাল সন্ধ্যায় ইউএই দূতাবাসের চিঠির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে জরুরি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে বসে সংশ্লিষ্টরা। তবে বৈঠক থেকে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। আজ স্বাস্থ্যমন্ত্রী
জাহিদ মালেক ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ হযরত শাহজালাল (র.) বিমানবন্দরে করোনার পরীক্ষার ল্যাব স্থাপনের জন্য নির্ধারিত জায়গা পরিদর্শন করবেন। পরিদর্শন শেষেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে কোন কোন প্রতিষ্ঠান বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষার অনুমতি পাবে। তা ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি দলও ল্যাব স্থাপনের কার্যক্রম তদারকি করতে আজ বিমানবন্দরে যাবে।
বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান ইউএই দূতাবাসের চিঠির ব্যাপারে বলেন, চিঠি পেয়েছি। চিঠিতে দূতাবাস বেশ কিছু শর্ত দিয়েছে। এ সিদ্ধান্ত নিতে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বৈঠকে সিদ্ধান্ত মঙ্গলবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী মহোদয় আবার সাইট পরিদর্শন করবেন। এরপর সিদ্ধান্ত জানা যাবে।
সূত্র জানায়, ঢাকাস্থ সংযুক্ত আরব আমিরাত দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স স্বাক্ষরিত চিঠি পাঠানো হয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবর। চিঠিতে বেশ কিছু শর্ত দিয়েছে তারা। ল্যাব স্থাপনে বায়োসেফটি লেভেল-২ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া পরীক্ষামূলকভাবে ওয়ান ওয়ের ৫০ যাত্রীকে বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষা করে আরব আমিরাতে পাঠানোর বিষয়ে বলা আছে। সূত্র জানায়, কোন এয়ারলাইন্স এই ৫০ যাত্রী পরিবহন করবে, কোন যাত্রীদের যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
এর আগে হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পার্কিং ইয়ার্ডের ছাদেই সংযুক্ত আরব আমিরাতগামীদের করোনা পরীক্ষার আরটি পিসি ল্যাব স্থাপনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে বেবিচক। স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরস (এসওপি) পাঠানো ছয় প্রতিষ্ঠানের তালিকা গত শুক্রবার ঢাকাস্থ সংযুক্ত আরব আমিরাত দূতাবাসে পাঠানো হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতগামীদের দাবির মুখে গত বুধবার সাত প্রতিষ্ঠানকে বিমানবন্দরে ল্যাব স্থাপনের অনুমতি দেয় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে স্টেমজ হেলথ কেয়ার (বিডি) লিমিটেড, সিএসবিএফ হেলথ সেন্টার, এএমজেড হাসপাতাল লিমিটেড, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, জয়নুল হক সিকদার ওমেন্স মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল প্রাইভেট লিমিটেড, গুলশান ক্লিনিক লিমিটেড, ডিএমএফআর মলিকুলার ল্যাব অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক। এর মধ্যে জয়নুল হক সিকদার ওমেন্স মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল ছাড়া বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের এসওপি জমা দিয়েছিল।
সূত্র জানায়, বিমানবন্দরের পার্কিং ইয়ার্ডের ৪০ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে করোনা পরীক্ষার ল্যাব, স্যাম্পল কালেকশন বুথ এবং যাত্রী অপেক্ষা কক্ষ স্থাপন করা হবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী যাত্রীরা প্রথমে বুথে গিয়ে করোনা পরীক্ষার জন্য স্যাম্পল দেবেন। এরপর তারা ফলাফলের জন্য ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করবেন। নেগেটিভ এলে তাদের বার কোডযুক্ত সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। শুধু আরটি পিসিআর পরীক্ষায় নেগেটিভ সার্টিফিকেটধারীরাই বিমানের বোডিং কার্ডসহ ইমিগ্রেশনের অনুমতি পাবেন। যাদের ফলাফল পজিটিভ আসবে তাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় আইসোলেশনসহ পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।