

বাগেরহাটে ১৩ কেজি ৫০০ গ্রাম ওজনের জাভা ভোল মাছ বিক্রি হয়েছে এক লাখ ৮ হাজার টাকায়। গতকাল সকালে বাগেরহাটের সামুদ্রিক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র কেবি বাজারে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা মণে মাছটি বিক্রি হয়। এর আগে বরগুনার মৎস্য ব্যবসায়ী মাসুম কোম্পানির একটি ট্রলার বাজারে মাছটি নিয়ে আসে। কেবি বাজারের আড়তদার অনুপমের ঘরে মাছটি ডাক দেওয়া হয়। উন্মুক্ত ডাকে স্থানীয় ক্রেতা আল আমিন হাজী মাছটি ক্রয় করেন।
এদিকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের পদ্মা নদীতে ৩৭ কেজি ওজনের একটি বাগাইড় মাছ ধরা পড়েছে। গতকাল ভোরে দৌলতদিয়ার পদ্মানদীর চর কর্নেশনা এলাকায় মানিকগঞ্জের জেলে গোবিন্দ হালদারের জালে মাছটি ধরা পড়ে। পরে দৌলতদিয়া ঘাটের এক মাছ ব্যবসায়ীর কাছে মাছটি ৪৮ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি করেন তিনি। জেলে গোবিন্দ হালদার জানান, শনিবার রাতে পদ্মায় জাল ফেলেন। গতকাল ভোরে জালটি
টেনে তুলতেই বিশাল আকারের বাগাইড় মাছটি ধরা পড়ে। তিনি আরও জানান, সকালে মাছটি বিক্রি করার জন্য দৌলতদিয়া ঘাটে রেজাউল ইসলামের আড়তে যান। পরে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে মাছটি বিক্রি করেন। বাগেরহাটের আড়ৎদার অনুপম বলেন, মাসুম কোম্পানির জেলেরা মাছটি আড়তে নিয়ে আসে। ১৩ কেজি ৫০০ গ্রাম ওজনের মাছটি এক লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।
মাছটির ক্রেতা আল আমিন হাজী বলেন, এই মাছটি চিটাগাংয়ের ব্যবসায়ীদের কাছে পাঠাব। এই মাছগুলো অনেক দামে বিক্রি হয়। এটি যদি ৩০ কেজি ওজন হতো, তা হলে অন্তত ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হত। যতদূর শুনেছি এই মাছের পেটের মধ্যে যে পুটকা (প্যাটা/বালিশ) থাকে তা খুব দামি। এটি দিয়ে ওষুধ বানানো হয়।
আল আমিন হাজী আরও বলেন, যতদূর জেনেছি এই মাছটি খোলা বাজারে টুকরো করে ৭ থেকে ৯শ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। তবে এর আালিশ প্রসেসিং করে অনেক বেশি দামে বিক্রি হয়।
জাবা ভোল বা সোনা ভোলের বিজ্ঞানসম্মত নাম ‘প্রোটোনিবিয়া ডায়াকানথুস’। ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, হংকং, সিঙ্গাপুর এবং মালয়েশিয়ায় এই সব দেশে এই মাছের চাহিদা খুব বেশি।
এই মাছের ঔষধি গুণ থাকাতেই এর মূল্য এত বেশি। মাছ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ওষুধ উৎপাদন সংস্থাগুলি এই মাছ কিনে নেয়। তারপর এর দেহের প্রায় প্রতিটি অংশ দিয়েই তৈরি হয় ওষুধ। এই মাছের বায়ু পটকা দিয়ে কিডনির নানা রোগ নিরাময়ের ওষুধ তৈরি হয়।