

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদের ( (বীরপ্রতীক)) মৃত্যুর শোকে তার এক ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমওর দায়িত্বে থাকা ডা. সিফাত আরা সামরিনের বাসায় নিয়ে যান। এ সময় ওই চিকিৎসক রোগীকে সেবা না দিয়ে স্বজনদের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও বাসা থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন চিকিৎসক সিফাত আরা সামরিন।
ভুক্তভোগীরা জানায়, আজ শনিবার ভোর ৫টায় দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের টেংরাটিলা (আজবপুর) গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ মৃত্যুবরণ করেন। বাবার মৃত্যুর শোকে অচেতন হয়ে পড়েন তার বড় ছেলে মেজবাউল গণি সুমন। পরে স্বজনরা তার চিকিৎসার জন্য সকাল সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
এ সময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কোনো ডাক্তার না পেয়ে রোগীকে হাসপাতালের আরএমওর দায়িত্বে থাকা ডা. সিফাত আরা সামরিনের কোয়ার্টারে নিচে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসক সিফাত আরার কাছে রোগীর চিকিৎসার কথা বললে রোগীর স্বজনদের বাসা থেকে বের দেন। এ ছাড়া তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও তিরস্কার করেন ওই চিকিৎসক। পরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হাসান মাহমুদের কাছে সেবা নিয়ে বাড়ি ফেরেন তারা।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদের ভাগনি শাহানা আক্তার বলেন, ‘সামরিন ম্যাডামের বাসায় গিয়েছিলাম, উনি বেডরুমে ছিলেন। আমি ওনাকে সালাম দিয়ে যখন বললাম, হাসপাতাল কোনো ডাক্তার নেই, আমি বীরপ্রতীক আব্দুল মজিদের বড় ছেলেকে নিয়ে এসেছি। বীরপ্রতীক মহোদয় মারা গেছেন, ওনার ছেলের অবস্থা খুব খারাপ, এই মুহূর্তে চিকিৎসা দরকার।’
একথা বলার পরই সিফাত আরা সামরিন আমাকে বলেন, ‘‘বেরিয়ে যা, বেরিয়ে যা, এখানে কেন আসছিস। আমি বীরপ্রতীককে চিনি না’’।’
ভুক্তভোগী শাহানা আক্তার আরও বলেন, ‘কক্ষে থাকা এক নারীকে চিকিৎসক সিফাত আরা বলেন, ‘‘ওরে ঘাড় ধইরা বের কইরা দরজা বন্ধ দে, অফিস টাইম এখন না, বেরিয়ে যা, বেরিয়ে যা আমার বাসা থেকে’’।’
অসুস্থ মেজবাউল গণি বলেন, ‘আমার বাবা মারা যাওয়ার পরে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। স্বজনরা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে দেখি জরুরি বিভাগে কোনো চিকিৎসক নেই। এরপর আমার স্বজনরা সিফাত আরা সারমিনের বাসায় নিয়ে যান। ওনার বাসায় থাকা এক নারীকে বলেন আমাদের বের করে দেওয়ার জন্য। ডাক্তার আমার ফুফাতো বোনের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে।’
এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. সিফাত আর সামরিন দৈনিক আমাদের সময়কে বলেন, ‘আমি সাত দিন ধরে ছুটিতে আছি। আমার বাসার হাউজ কিপারকে নির্দেশ দেওয়া আছে বাসায় যাতে কাউকে ঢুকতে না দেওয়া হয়। সকালে আমার বেডরুমে একজন ঢুকে পড়লে আমি আমার হাউজ কিপারকে একটু বকাঝকা করছি। রোগীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করিনি।’
এ বিষয়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সফর আলী বলেন, ‘চিকিৎসা সেবা চাইতে গিয়ে ডাক্তারের হাতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান লাঞ্ছিতের ঘটনা খুব দুঃখজনক। খবর শুনে মর্মাহত হয়েছি।’
সিভিল সার্জন ডা. মো. শামস উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি ইতিমধ্যে জানতে পেরেছি। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।’