শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:৩০ অপরাহ্ন

করোনার ছোবল : নীল নদে থমকে ভারতীয় পর্যটক বোঝাই জাহাজ

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২০
  • ২৯৯ বার

জাপানের ইয়োকোহামা, আমেরিকার সান ফ্রান্সিসকোর পর এবার মিসরের লাক্সর উপকূল। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের জেরে নীল নদের উপর থমকে গেল বিলাসবহুল জাহাজ। বেশ কয়েকজনের কোভিড-১৯ পরীক্ষায় পজিটিভ ধরা পড়েছে। যার মধ্যে একজন ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ার। তাকে হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে বলে খবর। জাহাজটিতে বন্দি হয়ে পড়েছেন তামিলনাডুর ১৮ জন বাসিন্দা। শনিবার তাদের ফেরার কথা ছিল। কিন্তু করোনা ভাইরাসের থাবায় পুরাটাই ভণ্ডুল হয়ে গেছে।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তামিলনাডুর সালেম থেকে এক পর্যটন সংস্থার সঙ্গে মিসর বেড়াতে গিয়েছিল ১৮ জনের একটি দল। ৭ তারিখ তাদের ফেরার দিন ঠিক ছিল। কিন্তু নীলনদে প্রমোদতরীতে ভ্রমণে বেরিয়েই বিপাকে পড়েন তারা। ক্রুজে এই ১৮ জন ছাড়াও ছিলেন তেত্রিশ জন ভিনদেশি পর্যটক, ১২ জন ক্রু মেম্বার। তাদের কারো মাধ্যমেই নোভেল করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে জাহাজটিতে। বেশ কয়েকজনের শরীরে জীবাণুর সন্ধান মেলে। যাদের মধ্যে রয়েছেন ক্রু মেম্বাররাও। চেন্নাইয়ের এক ইঞ্জিনিয়ারের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাইওয়ানের এক পর্যটকের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ায় তিনি তাইওয়ান ফিরে যান। বাকিরা সকলে জাহাজের মধ্যেই কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন।

এই অবস্থায় জাহাজের সুস্থ যাত্রীদের ঠিকমতো খাবারও জুটছে না। কারণ, সংক্রমণ আরো ছড়িয়ে পড়তে পারে, এই আশঙ্কায় রান্নাঘর সাফসুতরো করে তা বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে মজুত থাকা খাবার, খাবার পানিতে যতটুকু সময় কাটবে, ততটুকুই। তারপর কী হবে, এই ভেবে মাথায় হাত পড়েছে সকলের। আটকে পড়া ভারতীয় পর্যটক দল দূতাবাসের মাধ্যমে কেন্দ্রের কাছে সাহায্যের আবেদন করেছে। মিসরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাহায্যও চাওয়া হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, মিসরীয় ক্রু মেম্বারদের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগ হয়েছে। তারাও কেউ কেউ করোনা আক্রান্ত। এই অবস্থায় মন্ত্রণালয় তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং বাকি উদ্ধারকাজের চেষ্টা করছে। কিন্তু সেই চেষ্টা কবে বাস্তবায়িত হবে? সেই অপেক্ষাতেই দিন কাটাচ্ছেন অন্যান্য যাত্রীরা।

এক যাত্রীর কথায়, “প্রথম দুটি দিন যে কী ভয়ে ভয়ে কেটেছে, বলার বাইরে। আমি আর আমার স্বামী নিজেদের কেবিনের বাইরেই বেরইনি। যদি কোনো বিপদ হয়, এই ভেবে। এখন জানি না, নিয়তি আমাদের কোথায় নিয়ে গিয়ে ফেলবে। অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।”

এর আগে জাপানের ইয়োকোহামা বন্দরে ডায়মন্ড প্রিন্সেস এবং সান ফ্রান্সিসকো উপকূলে গ্র্যান্ড প্রিন্সেস নামে দুটি প্রমোদতরী আটকে গিয়েছিল। প্রথমটি থেকে ধীরে ধীরে যাত্রীদের উদ্ধার করা হয়। কিন্তু গ্র্যান্ড প্রিন্সেস থেকে এখনো সেভাবে উদ্ধারকাজ শুরু হয়নি। ওদিকে আবার মিসরের লাক্সরে ভারতীয় পর্যটকদের নিয়ে আটকে গেল আরেক ক্রুজ শিপ। ফলে করোনা ভাইরাস নিয়ে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে।
সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com