বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:৫৯ অপরাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি অচলাবস্থা, ফ্লাইট ২০ শতাংশ কমাতে পারে!

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৭৯ বার

যুক্তরাষ্ট্রে চলমান সরকারি অচলাবস্থার (শাটডাউন) প্রভাবে এবার দেশের আকাশপথে বড় সংকট তৈরি হচ্ছে।

পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি সতর্ক করে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে দেশজুড়ে ফ্লাইটের সংখ্যা ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হতে পারে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (৭ নভেম্বর) এই সতর্কতা দেন তিনি, যখন দেশটির প্রধান প্রধান এয়ারলাইনগুলো সরকার ঘোষিত নতুন ফ্লাইট হ্রাসের নির্দেশ বাস্তবায়নে কঠিন সময় পার করছে।

ফ্লাইট হ্রাস ও বিলম্বের চিত্র

ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) ইতোমধ্যে ৪০টি প্রধান বিমানবন্দরে ফ্লাইট সংখ্যা ৪ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দিয়েছে, যা আগামী ১৪ নভেম্বরের মধ্যে ১০ শতাংশে উন্নীত করা হবে।

শুক্রবার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের অনুপস্থিতির কারণে আটলান্টা, সান ফ্রান্সিসকো, হিউস্টন, ফিনিক্স, ওয়াশিংটন ডিসি ও নিউয়ার্কসহ অন্তত ১০টি বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বিলম্বিত হয়।

ফ্লাইট-ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটগুলোর তথ্যমতে, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ৫ হাজার ৩০০টির বেশি ফ্লাইট দেরিতে ছাড়ে। ওয়াশিংটন ডিসির রিগ্যান ন্যাশনাল বিমানবন্দরে গড়ে চার ঘণ্টা পর্যন্ত দেরি হয়; সেখানে ১৭ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল এবং প্রায় ৪০ শতাংশ বিলম্বিত হয়।

 

রেকর্ড ৩৮ দিনব্যাপী সরকারি শাটডাউনের ফলে ১৩ হাজার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার ও ৫০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী বেতন ছাড়া কাজ করছেন। এতে অনুপস্থিতির হার ক্রমশ বাড়ছে।

অনেক কর্মীকে জানানো হয়েছে, আগামী সপ্তাহেও তারা কোনো বেতন পাবেন না, যা প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও চাপ

বিশ্লেষকদের মতে, এই শাটডাউন পরিস্থিতি মূলত রাজনৈতিক অচলাবস্থা থেকে সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে যাতে তারা রিপাবলিকানদের প্রস্তাবিত তহবিল পরিকল্পনায় সম্মতি দেয় এবং সরকার পুনরায় সচল করা যায়।

ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করেছেন, রিপাবলিকানরাই এই স্থবিরতার জন্য দায়ী, কারণ তারা স্বাস্থ্য বীমা ভর্তুকি নিয়ে আপস করতে রাজি নয়।

পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি বলেন,

“যদি পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যায় এবং কন্ট্রোলাররা কাজে না আসেন, তবে আমরা হয়তো ২০ শতাংশ পর্যন্ত ফ্লাইট কমাতে বাধ্য হবো। আকাশপথের তথ্য নিয়মিত বিশ্লেষণ করে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

সার্বিক প্রভাব

সরকারি অচলাবস্থার ফলে শুধু বিমান চলাচল নয়, দেশের সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অর্থনীতিয়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এয়ার ট্রাফিক ব্যাহত হলে বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ ছাড়াও পণ্য পরিবহন ব্যয় বাড়বে এবং যাত্রীসেবা বিঘ্নিত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com