

শুল্ক আরোপের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছিলেন, ‘চাকরি আর কারখানাগুলো আবার গর্জে উঠে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসবে।’ তার দাবি ছিল-আমদানির ওপর কর আরোপ করলে বিদেশি বাজার খুলে যাবে এবং বাণিজ্যিক বাধা ভেঙে পড়বে, ফলে আমেরিকানদের জন্য দাম কমবে।
কিন্তু বাস্তবে তেমনটা হয়নি, ঘোষিত শুল্ক আরোপের পর অস্থিরতা শুরু হয় বিশ্ববাণিজ্যে। পণ্যের দামও বাড়তে থাকে হু হু করে। ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে এবং এ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন রীতিমতো চাপের মুখে রয়েছে।
এ অবস্থায় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষতি সামাল দিতে নতুন পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে ট্রাম্পকে।
সোমবার হোয়াইট হাউসে তিনি ঘোষণা করেন ১২ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্যাকেজ, যা দেওয়া হবে আমেরিকার কৃষকদের-যারা মূলত তারই বাণিজ্য নীতির কারণে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
হোয়াইট হাউস বলছে, মঙ্গলবার ট্রাম্প যাবেন পেনসিলভানিয়া। জীবনযাত্রার ব্যয় বা “অ্যাফোর্ডেবিলিটি” ইস্যু নিয়ে একাধিক বক্তৃতার প্রথমটি হবে এখানে। গত সপ্তাহেও প্রেসিডেন্ট এই সমস্যাকে “ডেমোক্র্যাটদের সৃষ্টি করা সবচেয়ে বড় প্রতারণা” বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।
এদিকে বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী চীন সোমবার নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য কিছুটা কমলেও বাকি বিশ্বের সঙ্গে তাদের রেকর্ড পরিমাণ বাণিজ্য উদ্বৃত্ত চলছে। এটি ইঙ্গিত করে, যুক্তরাষ্ট্র ব্যবসার জন্য কঠিন জায়গা হয়ে উঠলেও বেইজিং দ্রুত নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে পারছে।
আর এখন পর্যন্ত খুব কমই প্রমাণ মিলেছে যে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ও বিশ্বায়নের কারণে যেসব উৎপাদনশিল্পের চাকরি মার্কিন শহরগুলো থেকে হারিয়ে গিয়েছিল, সেগুলো আবার ফিরে আসছে।
মোট কথা; ট্রাম্পের শুল্কনীতির ফলে পণ্যের দাম বাড়ছে, যা জনগণের মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ আরও গভীর করছে।
উৎপাদনশিল্পের চাকরি ফিরছে না এবং মুদ্রাস্ফীতি কমার বদলে আবারও বাড়ছে। এসব পরিস্থিতির মধ্যেও ট্রাম্প দাবি করছেন তার শুল্কনীতি কাজ করছে এবং শুল্ক আদায় থেকেই কৃষকদের সহায়তা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুল্কের ফলে কৃষকসহ বিভিন্ন খাতেই খরচ বেড়েছে এবং বাজার আরও জটিল হয়ে পড়েছে।