রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
তরুণরা নেতৃত্ব দিলে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন টেকসই হবে: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী তরুণরা নেতৃত্ব দিলে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন টেকসই হবে: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী একটি চক্র জ্বালানি খাতকে অস্থিতিশীল করার জন্য সক্রিয়: প্রধানমন্ত্রী জলসীমা অতিক্রম করে ৩ জেলেকে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি জ্বালানি তেল আমদানি নীতিমালা নিয়ে বিভ্রান্তি, যা বলছে মন্ত্রণালয় নিজ দলের নেতাকে মারধর ও চাঁদাবাজির অভিযোগ, বিএনপি নেতা আজাদের সব পদ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থগিত জুলাই জাদুঘর থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু জিনিস বিএনপি সরিয়ে ফেলেছে: আসিফ মাহমুদ জুলাইযোদ্ধাদের সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশা উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও আয়নাঘরে রেখে নির্যাতন করা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর প্রতিটি বাড়িঘর পাহারায় রাখা সম্ভব নয়: রাজউক চেয়ারম্যান

ভারত হাসিনাকে ফেরত দিতে রাজি না হলে করার কিছু নেই!-পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১২৯ বার

জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়টি ভারতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। দিল্লি অবস্থান করা আওয়ামী লীগ সভাপতির দেশে ফেরার বিষয়টি তাঁর নিজের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করার যে বক্তব্য ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর দিয়েছেন, সেই প্রেক্ষাপটে বুধবার এক প্রশ্নে ঢাকার প্রধান কূটনীতিকের তরফে এই বক্তব্য আসে।

জয়শঙ্করের ওই বক্তব্যের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান কী- এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘আমরা কী করতে পারি, বলেন তো? এ ক্ষেত্রে ঢাকার কী করণীয়Ñ এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, করণীয় তেমন কিছু আসলে নেই। কারণ, ভারতকে রাজি হতে হবে অথবা চাইতে হবে তাঁকে ফেরত পাঠাতে। ‘ভারত রাজি না হলে আর করার কিছু নেই?’Ñ এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, রাজি না হলে আসলেতো করার কিছু নেই। আমরা রাজি করানোর চেষ্টা করতে পারি। ভারতে রাজি করানোর চেষ্টার বিষয়ে আরেক প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা রাজি করানোর চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারি, এইটুকুই। এর চেয়ে বেশি কিছু করতে পারি না। রক্তক্ষয়ী

গণ-অভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এখনও সেখানেই আছেন তিনি। জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। কামালও ভারতে অবস্থান করছেন। সেদিনই এক বিবৃতিতে দুইজনকে ফেরত দিতে ভারতের প্রতি আবারও আহ্বান জানিয়েছে সরকার। এরপর ২৩ নভেম্বর ভারতকে কূটনৈতিকপত্র পাঠায় সরকার। এর তিন দিন পর দিল্লি চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করে। তবে শেখ হাসিনা ও কামালকে ফেরত দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে ভারত এখনও কিছু জানায়নি। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার পর প্লট দুর্নীতির মামলায়ও শেখ হাসিনার কারাদণ্ড হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সভাপতির ভারতে থাকার বিষয়টি তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত মন্তব্য করে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর বলেছেন, তিনি যে ‘পরিস্থিতিতে’ ভারতে আসতে বাধ্য হয়েছেন, তাতে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সেটির প্রভাব থাকবে।

ভারতের বাইরে তৃতীয় কোনো দেশে শেখ হাসিনা যাওয়ার পরিকল্পনার বিষয়েও কোনো কোনো সংবাদমাধ্যমে খবর হয়েছে। এ বিষয়ে এক প্রশ্নে তৌহিদ হোসেন বলেন, এটাও তো আমার কিছু করার নেই, বাংলাদেশেও খুব বেশি কিছু করার নেই। আমরা তো চাই যে, উনি ফেরত আসুক। কূটনৈতিক চ্যানেলে বাংলাদেশকে কেউ জানিয়েছে কি নাÑ এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ওই রকম কিছু জানি না। তবে শুনেছি, আপনারা যে রকম শুনেছেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কার্যালয় ৪০টি সুপারিশ দিয়েছিল। সেখানে র‌্যাব-ডিজিএফআই বিলুপ্ত করার কথা বলা হয়েছিল। সেই সুপারিশ অন্তর্বর্তী সরকার আমলে নেবে কি নাÑ জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, ডিজিএফআইয়ের মতো প্রতিষ্ঠান পৃথিবীর প্রত্যেকটি দেশে আছে। এটা তারা বললেই তো হবে না। ৪০টি সুপারিশ দিয়েছে তারা, যেগুলো আমাদের এবং আমাদের পরের সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হবে, সেগুলো করবে তারা। তিনি বলেন, সবই যে করা যাবে, এমন কোনো কথা নেই।

র‌্যাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের কাজের বিপুল পরিবর্তন হয়েছে। র‌্যাব তো প্রাথমিকভাবে অত্যন্ত ফলপ্রসূ একটা প্রতিষ্ঠান ছিল, সেটাকে অনেক প্রতিষ্ঠানের মতোই গত ১৫ বছর ধ্বংস করা হয়েছে। যে কাজ তাদের দিয়ে করানো হয়েছে, এটা তো তাদের কাজ না। এখন আমরা চাই, তারা যদি কাজ করে দেশের স্বার্থে, তাহলে তো আমার প্রতিষ্ঠান নষ্ট করার প্রয়োজন নেই।

নতুন করে কোনো নিষেধাজ্ঞা আসার সম্ভাবনা আছে কি নাÑ এমন প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা এলে আমার তো মনে হয় না এ ধরনের কোনো সম্ভাবনা আছে। কারণ, আমি দেখতে পাচ্ছি না কোনো অভিযোগ আসছে। কারণ, র‌্যাবের কাজে স্পষ্টতই অনেক ইমপ্রুভমেন্ট হয়েছে, এটা সবাই স্বীকার করে। ১৫ বছর আগে র‌্যাব যা কাজ করছিল, সেগুলো এখন কমপ্লেইন থাকতে পারে কিছু। কিন্তু ডেফিনেটলি অনেক ইমপ্রুভমেন্ট হয়েছে। কিন্তু এই সরকারের প্রচেষ্টার কোনো অভাব নেই কারও যেন মানবাধিকার এভাবে লঙ্ঘিত না হয়, যেন ভুল না হয়, সেখানে আমাদের কমিটমেন্ট শতভাগ প্রতিশ্রুতি আছে। শতভাগ কমিটমেন্টের পরও হয়তো সবসময় শতভাগ ফলাফল পাওয়া যায় না, এটা হতে পারে। কিন্তু আপনারা বিরাট ইমপ্রুভমেন্ট সবাই লক্ষ্য করেছেন। আর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে একটু প্রসেসের ব্যাপার আছে, প্রসেসে চলছে, দেখা যাক, আমরা কতটুকু এগোতে পারি। সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এটার ব্যাপারে আমার অবস্থানটা আপনারা খুব ভালো করেই জানেন। আমার এ ব্যাপারে নতুন করে কিছু বলার নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com