

এক-এগারোর সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) বন্দী রেখে নির্যাতন করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
আজ শনিবার ঢাকা সেনানিবাসে ডিজিএফআই সদরদপ্তরে জেআইসি সেল নামক গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘বিচারের একটি অংশ হিসেবে আয়নাঘর হিসেবে পরিচিত জেআইসিতে আমাদের এই পরিদর্শন। এখানে মানুষকে ধরে এনে বন্দী রেখে অত্যাচার ও নির্যাতন চালানো হতো। সেই নির্মম চিত্র আজ এই পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে কিছুটা অনুভব করা গেছে।’
আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘গোপন এই বন্দিশালায় অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমীসহ বহু মানুষকে বছরের পর বছর রাখা হয়েছিল। এমনকি ১/১১-এর সময় এখানকারই একটি কামরায় আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এনে নির্যাতন করা হয়েছিল।’
‘তবে দেশে যেন ভবিষ্যতে এমন কোনো টিএফআই বা জেআইসি তথা আয়নাঘর প্রতিষ্ঠিত না হয়, সেজন্য আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ জানাব’, যোগ করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের কোনো নাগরিক অপরাধ করলে অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে। তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। কিন্তু বিচারবহির্ভূত কোনো কিলিংয়ের শিকার যেন কেউ না হন, এভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে অহেতুক হয়রানির শিকার যেন না হন, সেটিই আমরা চাইব।’
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বিগত সরকার শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি অমানবিক রাষ্ট্র কায়েম করেছিল। সরকারের অসৎ উদ্দেশ্যে এই আয়নাঘর নামীয় টর্চারসেল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ভিন্নমতের অনেক ভুক্তভোগীকে মাসের পর মাস বছরের পর বছর এই টর্চার সেলে আটকে রাখা হয়।
তিনি বলেন, এই টর্চার সেলের সঙ্গে যারা জড়িত ছিল তাদের বিচারের আওতায় আনা হয়েছে, ভবিষ্যতে যাদের পাওয়া যাবে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
এ সময় ৫ আগস্টের পর অনেক জায়গায় আলামত নষ্ট করা হয়েছে, ওয়াল দিয়ে ঢেকে ফেলা হয়েছে। অসংখ্য তথ্য প্রমাণ নষ্ট করে ফেলা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন আমিনুল ইসলাম।
এর আগে ডিজিএফআই সদরদপ্তরে থাকা জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার (জেআইসি) পরিদর্শনে যান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যানসহ বিচারপতি ও প্রসিকিউশন টিম। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সংঘটিত গুম-নির্যাতনের ঘটনায় হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারের স্বার্থে এ পরিদর্শন বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।
পরিদর্শনে ছিলেন– ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। তাদের সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, শাইখ মাহদী, তাসমিরুল ইসলামসহ প্রসিকিউশন টিমের সদস্যরা। এ ছাড়া, অনুমতি পেয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও।
গত ১ আগস্ট রাজধানীর উত্তরায় র্যাব-১ সদরদপ্তরে থাকা টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল বা আয়নাঘর পরিদর্শন করা হয়। ওইদিন ছোট-বড় মোট ২৯টি কক্ষ ঘুরে দেখেন বিচারপতি মর্তূজাসহ ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি ও প্রসিকিউটররা। একই সঙ্গে সাতটি ডেথ সেলে বন্দিদের আটকে রেখে নির্যাতনের চিত্র সম্পর্কে ধারণা নেন তারা।