শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
তরুণরা নেতৃত্ব দিলে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন টেকসই হবে: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী তরুণরা নেতৃত্ব দিলে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন টেকসই হবে: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী একটি চক্র জ্বালানি খাতকে অস্থিতিশীল করার জন্য সক্রিয়: প্রধানমন্ত্রী জলসীমা অতিক্রম করে ৩ জেলেকে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি জ্বালানি তেল আমদানি নীতিমালা নিয়ে বিভ্রান্তি, যা বলছে মন্ত্রণালয় নিজ দলের নেতাকে মারধর ও চাঁদাবাজির অভিযোগ, বিএনপি নেতা আজাদের সব পদ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থগিত জুলাই জাদুঘর থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু জিনিস বিএনপি সরিয়ে ফেলেছে: আসিফ মাহমুদ জুলাইযোদ্ধাদের সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশা উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও আয়নাঘরে রেখে নির্যাতন করা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর প্রতিটি বাড়িঘর পাহারায় রাখা সম্ভব নয়: রাজউক চেয়ারম্যান

তরুণরা নেতৃত্ব দিলে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন টেকসই হবে: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ০ বার

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন তখনই টেকসই হবে, যখন দেশের তরুণরা এই পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেবে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, সততা, সৃজনশীলতা এবং দেশপ্রেমই আগামীর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি।

শনিবার গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, বাংলাদেশ (ইউএফটিবি) ক্যাম্পাসে আয়োজিত ‘রোবোফিউশন ১.০-ন্যাশনাল রোবোটিক্স ফেস্টিভ্যাল’-এ তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সরকারের মূল লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া নয়; বরং এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে আমাদের তরুণরা প্রযুক্তির ব্যবহারকারী থেকে প্রযুক্তির উদ্ভাবকে পরিণত হবে।’

‘সে লক্ষ্যেই আমরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, সাইবার নিরাপত্তা, উদ্ভাবন, গবেষণা, স্টার্টআপ এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে অগ্রাধিকার দিচ্ছি,’ যোগ করেন তিনি।

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে জ্ঞানভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং উদ্ভাবনকেন্দ্রিক অর্থনীতি গড়ে তোলা। এ লক্ষ্য অর্জনে দক্ষ মানবসম্পদ, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা সৃষ্টি এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কেবল পাঠদান বা ডিগ্রি প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; এগুলোকে গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং শিল্প-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহযোগিতার কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর প্রযুক্তিগত সাফল্যের পেছনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা ও উদ্ভাবন মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। বাংলাদেশেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সেই ভূমিকা আরও শক্তিশালীভাবে পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, বিশ্ব আজ প্রযুক্তিগত রূপান্তরের এক অভূতপূর্ব সময় অতিক্রম করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স, অটোমেশন, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), ক্লাউড কম্পিউটিং, সাইবার সিকিউরিটি, সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি এবং কোয়ান্টাম কম্পিউটিং আগামী দিনের অর্থনীতি, শিল্প, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ভিত্তি নির্ধারণ করছে। বাংলাদেশও এই বৈশ্বিক পরিবর্তনের অংশীদার।

মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে প্রযুক্তি শিক্ষা, গবেষণা, রোবোটিক্স, উদ্ভাবন এবং উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি কর্তৃক আয়োজিত এ অনুষ্ঠান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমাদের সরকার একটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গঠনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সবার জন্য ইন্টারনেট, ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের মাধ্যমে একটি দক্ষ, যুগোপযোগী মানবসম্পদ গঠনে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। যেখানে সমাজের কোনো শ্রেণি অবহেলিত থাকবে না, পিছিয়ে পড়বে না।’

মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে, যার সুফল মানুষ ভোগ করছে।

তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সম্প্রসারণে সবার জন্য ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিতকরণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, ন্যানোটেকনোলজি ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে সরকার বেশ কিছু কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এসব কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এ খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে এবং বাংলাদেশ বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, তোমাদের জন্য প্রয়োজন গবেষণা ও উদ্ভাবন। প্রযুক্তিকে শুধু ব্যবহার করো না; প্রযুক্তি উদ্ভাবন করো। তোমাদের গবেষণাগার থেকে বেরিয়ে আসুক নতুন প্রযুক্তি। তোমাদের উদ্ভাবন থেকেই জন্ম নিক নতুন স্টার্টআপ।

তিনি বলেন, আমাদের প্রয়োজন এমন তরুণ, যারা শুধু চাকরির জন্য প্রস্তুত হবে না; বরং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগ গড়ে তুলবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের সক্ষমতার পরিচয় তুলে ধরবে।

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ছোট ছোট উদ্ভাবনগুলোকে সফল উদ্যোগে পরিণত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ড ঘোষণা করেছেন। এ ফান্ড ব্যবহার করে আমরা প্রত্যেকটি সম্ভাবনাময় উদ্ভাবনকে উদ্যোগে রূপান্তর করে তার সুফল মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পারবো।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে তুলে একটি শক্তিশালী উদ্ভাবন-ইকোসিস্টেম নির্মাণে সরকার কাজ করছে। ‘রোবোফিউশন ১.০’-এর মতো আয়োজন এ অঙ্গীকারকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং বাংলাদেশের তরুণদের প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কটি আমাদের মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি ফ্ল্যাগশিপ হাইটেক পার্ক। এতে বিনিয়োগের জন্য ইউরোপ, চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে। তাদের এই পার্কে জায়গা দিতে হবে।

ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, বাংলাদেশের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও বক্তৃতায় উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোক্তার আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মজিবুর রহমান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আবু ইউসুফ, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য এম এ মুবিন খান প্রমুখ।

স্থানীয় সংসদ সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জোর দাবি জানান।

অনুষ্ঠানে শিক্ষাবিদ, গবেষক, শিল্পখাতের প্রতিনিধিবৃন্দ, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সদস্য, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আগত শিক্ষক-শিক্ষার্থী, উদ্ভাবক, প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ, গণমাধ্যমকর্মী এবং ইউএফটিবি রোবোটিক্স ক্লাবের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com