

এলিট ও কালচারাল শ্রেণির ভোটারদের আস্থা বেড়েছিল তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ওপর। তবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন আট-দলীয় জোটের সঙ্গে নির্বাচনি আসন সমঝোতায় যাওয়ার পর সে ভোট হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। দলটির কেন্দ্রীয় নারী নেত্রীরা নিজেদের গুটিয়ে নেওয়ার ঘোষণায় দলের ভিতরে যেমন চাপ বেড়েছে, তেমনি নেতাদের পদত্যাগের হিড়িকে এনসিপির ভিতরে-বাইরে অস্বস্তি বাড়ছেই। ২০২৪-এর জুলাই আন্দোলনের পর জামায়াত-বিএনপির বাইরে গড়ে উঠেছিল এনসিপি। ফলে রাষ্ট্র সংস্কারপন্থিদের আস্থার জায়গা হয়ে উঠেছিল দলটি। সম্মুখসারিতে থেকে দেশের
রাজনীতিতে ভবিষ্যতে বড় ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা থাকলেও জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতায় গিয়ে মানুষের আস্থা হারানোর কথা অনেকে বলছেন। এতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানুষের আশানুরূপ সমর্থন থেকে ছিটকে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এসব বিষয় নিয়ে দলের সর্বত্র জোর সমালোচনা চলছে বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, এনসিপি থেকে পদত্যাগ করা ১১ নেতা শুরু থেকেই জামায়াতের সঙ্গে জোট করতে রাজি ছিলেন না। তবে বিএনপির সঙ্গে জোটে যেতে তাদের আপত্তি ছিল না। পদত্যাগ করা নেতাদের মধ্যে দলের জন্য ডা. তাসনিম জারা গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন। তাঁর পদত্যাগে ভোটের মাঠে বিরূপ প্রভাব পড়বে। জামায়াতের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে জোট ঘোষণার আলোচনার মধ্যে প্রথমেই পদত্যাগ করেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা। এরপর ধারাবাহিকভাবে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের মোট ১১ নেতা পদত্যাগ করেন। তাদের মধ্যে অনেকে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। বাকিরা ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে দল ছাড়েন। এর বাইরে অন্তত পাঁচ নেত্রী এ বিষয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এদের মধ্যে দুজন এনসিপির মনোনীত প্রার্থী হয়েও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
পদত্যাগকারী নেতারা হলেন সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা, যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ, তাজনূভা জাবীন, যুগ্ম সদস্যসচিব ও মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন, যুগ্ম সদস্যসচিব আরিফ সোহেল, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন, আইসিটি সেলের প্রধান ফারহাদ আলম ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় সদস্য আল আমিন আহমেদ টুটুল, কেন্দ্রীয় সংগঠক ও মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নাতি আজাদ খান ভাসানী এবং কেন্দ্রীয় সদস্য সৈয়দা নীলিমা দোলা। এর আগে গত ২৫ ডিসেম্বর জোট আলোচনার শুরুতেই পদত্যাগ করেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ও চট্টগ্রাম-১৬ আসনের মনোনীত প্রার্থী মীর আরশাদুল হক।
১১ নেতা পদত্যাগ করলেও বাকি ২০১ জন নেতা জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিষয়ে একমত রয়েছেন। এতে নির্বাচনি ভোটব্যাংকে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মনে করেন এনসিপির মুখ্য যুগ্ম সমন্বয়ক মাহাবুব আলম। তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমরা প্রত্যেকের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সম্মান করি। নিশ্চয় প্রত্যাশা থাকবে পদত্যাকারী নেতারা দলের বাকি নেতাদের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাবেন। কেননা জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিষয়ে দলের নেতাদের সঙ্গে আমরা আলোচনা করেছি। সর্বসম্মতিক্রমে (২০১ নেতার হ্যাঁ মতামত) আমরা জোটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এতে বিচ্ছিন্ন কয়েকজনের পদত্যাগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না।