

জাতিসংঘ-সংশ্লিষ্ট সংস্থাসহ প্রায় ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংগঠন থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের ভিত্তিতে এসব সংস্থা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আলজাজিরা, দ্য গার্ডিয়ানসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার (৭ জানুয়ারি) এক নির্বাহী আদেশে ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা, এজেন্সি ও কমিশনে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। এর আগে এসব সংস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ও অর্থায়ন পর্যালোচনার নির্দেশনা দিয়েছিলেন তিনি।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের পর্যালোচনায় এসব সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ ১৪১৯৯-এর আওতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এসব সংস্থার কার্যক্রম লক্ষ্যহীন, অব্যবস্থাপনায় পূর্ণ এবং অনেক ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো মহলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যবহৃত হচ্ছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, মার্কিন জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ বা সম্পদ এমন কোনো প্রতিষ্ঠানে ব্যয় করা আর সম্ভব নয়, যা থেকে আমেরিকানদের কোনো অর্জন নেই। করদাতাদের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিদেশের স্বার্থে ব্যয় করার দিন শেষ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এক সময় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো শান্তি ও সহযোগিতার লক্ষ্যে গঠিত হলেও বর্তমানে তা এক বিশাল গ্লোবাল গভর্ন্যান্স বা বৈশ্বিক শাসন ব্যবস্থায় রূপ নিয়েছে। এসব সংস্থা প্রগতিশীল মতাদর্শ, জলবায়ু সংক্রান্ত গোঁড়ামি এবং জেন্ডার ইক্যুইটি বা লিঙ্গ সমতার মতো প্রচারণায় লিপ্ত থেকে মূল জাতীয় স্বার্থ থেকে বিচ্যুত হয়েছে।
রুবিও অভিযোগ করেন, এসব সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে সীমিত করার চেষ্টা করছে। ইউএসএআইডি বন্ধ করার ধারাবাহিকতায় এবার বহুপাক্ষিক এই ‘এনজিও-প্লেক্স’ বা সংস্থাগুলোর জাল ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যেসব সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বা অপ্রাসঙ্গিক, সেখানে কূটনৈতিক পুঁজি ও সম্পদ নষ্ট করবে না ওয়াশিংটন। তবে যেখানে জনগণের স্বার্থ রক্ষা হবে, সেখানে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানানো হয়েছে।
আরও বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যক্রম বর্তমানে পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
হোয়াইট হাউজের ওয়েবসাইটে ৬৬টি সংস্থার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট সংস্থা ৩১টি এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা ৩৫টি।
সংস্থাগুলোর তালিকা নিম্নরূপ:
জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট সংস্থা: ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল অ্যাফেয়ার্স, জাতিসংঘ অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক)-আফ্রিকার জন্য অর্থনৈতিক কমিশন, ইকোসক-লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ানের জন্য অর্থনৈতিক কমিশন, ইকোসক-এশিয়া ও প্যাসিফিকের জন্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন, ইকোসক-পশ্চিম এশিয়ার জন্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন, ইন্টারন্যাশনাল ল কমিশন, ইন্টারন্যাশনাল রেজিডুয়াল মেকানিজম ফর ক্রিমিনাল ট্রাইব্যুনালস, ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টার, অফিস অব দ্য স্পেশাল অ্যাডভাইজর অন আফ্রিকা, অফিস অব দ্য স্পেশাল রিপ্রেজেন্টেটিভ অব দ্য সেক্রেটারি জেনারেল ফর চিলড্রেন ইন আর্মড কনফ্লিক্ট, অফিস অব দ্য স্পেশাল রিপ্রেজেন্টেটিভ অব দ্য সেক্রেটারি-জেনারেল অন সেক্সুয়াল ভায়োলেন্স ইন কনফ্লিক্ট, অফিস অব দ্য স্পেশাল রিপ্রেজেন্টেটিভ অব দ্য সেক্রেটারি-জেনারেল অন ভায়োলেন্স অ্যাগেইনস্ট চিলড্রেন, পিসবিল্ডিং কমিশন, পিসবিল্ডিং ফান্ড, পার্মানেন্ট ফোরাম অন পিপল অব আফ্রিকান ডিসেন্ট, জাতিসংঘ অ্যালায়েন্স অব সিভিলাইজেশনস, জাতিসংঘ কোলাবোরেটিভ প্রোগ্রাম অন রিডুসিং এমিশনস ফ্রম ডিফরেস্টেশন অ্যান্ড ফরেস্ট ডিগ্রেডেশন ইন ডেভেলপিং কান্ট্রিজ, জাতিসংঘ কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, জাতিসংঘ ডেমোক্র্যাসি ফান্ড, জাতিসংঘ এনার্জি, জাতিসংঘ এনটিটি ফর জেন্ডার ইকুয়ালিটি অ্যান্ড দি এমপাওয়ারমেন্ট অব উইমেন, জাতিসংঘ ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ, জাতিসংঘ হিউম্যান সেটেলমেন্টস প্রোগ্রাম, জাতিসংঘ ইনস্টিটিউট ফর ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ, জাতিসংঘ ওশানস, জাতিসংঘ পপুলেশন ফান্ড, জাতিসংঘ রেজিস্টার অব কনভেনশনাল আর্মস, জাতিসংঘ সিস্টেম চিফ এক্সিকিউটিভস বোর্ড ফর কো অর্ডিনেশন, জাতিসংঘ সিস্টেম স্টাফ কলেজ, জাতিসংঘ ওয়াটার এবং জাতিসংঘ ইউনিভার্সিটি।
জাতিসংঘ বহির্ভূত সংস্থা: ২৪/৭ কার্বন-ফ্রি এনার্জি কম্প্যাক্ট, কলম্বো প্ল্যান কাউন্সিল, কমিশন ফর এনভায়রনমেন্টাল কো অপারেশন, এডুকেশন ক্যানট ওয়েট, ইউরোপিয়ান সেন্টার অব এক্সিলেন্স ফর কাউন্টারিং হাইব্রিড থ্রেটস, ফোরাম অব ইউরোপিয়ান ন্যাশনাল হাইওয়ে রিসার্চ ল্যাবরেটরিজ, ফ্রিডম অনলাইন কোয়ালিশন, গ্লোবাল কমিউনিটি এংগেজমেন্ট অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ফান্ড, গ্লোবাল কাউন্টারটেররিজম ফোরাম, গ্লোবাল ফোরাম অন সাইবার এক্সপার্টাইজ, গ্লোবাল ফোরাম অন মাইগ্রেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ইন্টার-আমেরিকান ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল চেঞ্জ রিসার্চ, ইন্টারগভর্নমেন্টাল ফোরাম অন মাইনিং, মিনারেলস, মেটালস অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট, জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আন্তঃসরকার প্যানেল, ইন্টারগভর্নমেন্টাল সায়েন্স-পলিসি প্ল্যাটফর্ম অন বায়োডাইভার্সিটি অ্যান্ড ইকোসিস্টেম সার্ভিসেস, ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব দ্য প্রিজারভেশন অ্যান্ড রেস্টোরেশন অব কালচারাল প্রপার্টি, ইন্টারন্যাশনাল কটন অ্যাডভাইজরি কমিটি, ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ল অর্গানাইজেশন, ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি ফোরাম, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব আর্টস কাউন্সিলস অ্যান্ড কালচার এজেন্সিজ, ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেকটোরাল অ্যাসিস্ট্যান্স, ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর জাস্টিস অ্যান্ড দ্য রুল অব ল, ইন্টারন্যাশনাল লেড অ্যান্ড জিঙ্ক স্টাডি গ্রুপ, ইন্টারন্যাশনাল রিনিউয়েবল এনার্জি এজেন্সি, ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স, ইন্টারন্যাশনাল ট্রপিকাল টিম্বার অর্গানাইজেশন, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার, প্যান আমেরিকান ইনস্টিটিউট অব জিওগ্রাফি অ্যান্ড হিস্ট্রি, পার্টনারশিপ ফর আটলান্টিক কো অপারেশন, রিজিওনাল কো অপারেশন অ্যাগ্রিমেন্ট অন কমব্যাটিং পাইরেসি অ্যান্ড আর্মড রবারি অ্যাগেইনস্ট শিপস ইন এশিয়া, রিজিওনাল কো অপারেশন কাউন্সিল, রিনিউয়েবল এনার্জি পলিসি নেটওয়ার্ক ফর দ্য টুয়েন্টি ফাস্ট সেঞ্চুরি, সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি সেন্টার ইন ইউক্রেন, সেক্রেটারিয়েট অব দ্য প্যাসিফিক রিজিওনাল এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রাম এবং ভেনিস কমিশন অব দ্য কাউন্সিল অব ইউরোপ।