শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন

ভোটের প্রচারে যা করা যাবে না

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩১ বার

সারাদেশে জাতীয় নির্বাচনের প্রচার আজ থেকে শুরু হয়েছে। এবারই প্রথমবার জাতীয় নির্বাচনে পোস্টার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রার্থীরা লিফলেট ও ব্যানার ব্যবহার করতে পারবেন। তবে সেগুলোতে প্রার্থী ও দলীয় প্রধান ছাড়া অন্য কারও ছবি রাখা যাবে না। নির্বাচনী প্রচারে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা যাবে না। ড্রোন বা কোয়াডকপ্টার ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। মাইক ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন। একজন প্রার্থী একসঙ্গে সর্বোচ্চ তিনটি মাইক ব্যবহার করতে পারবেন। মাইকে প্রচার চালানো যাবে দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। একটি সংসদীয় আসনে সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। বিলবোর্ডের দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ১৬ ফুট ও প্রস্থ ৯ ফুট নির্ধারণ করা হয়েছে।

এবার প্রথমবারের মতো সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারে বেশকিছু ধারা যুক্ত করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো এক টেলিভিশন সংলাপেরও আয়োজন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো সড়কে জনসভা কিংবা পথসভা করতে পারবে না। নির্বাচনী প্রচারে কোনো প্রকার পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না। নির্বাচনী প্রচারে অপচনশীল দ্রব্য যেমন রেক্সিন, পলিথিন, প্লাস্টিক তথা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এমন কোনো উপাদানে তৈরি কোনো প্রচারপত্র, লিফলেট-হ্যান্ডবিল, ফেস্টুন ব্যানার ব্যবহার করা যাবে না।

যানবাহনে কোনো প্রকার লিফলেট হ্যান্ডবিল ফেস্টুন লাগানো যাবে না। নির্বাচনী এলাকায় অবস্থিত দেয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটিতে লিফলেট লাগানো যাবে না।

কোনো প্রার্থী কর্তৃক কোনো নির্বাচনী এলাকায় একসঙ্গে তিনটির অধিক মাইক্রোফোন বা লাউড স্পিকার ব্যবহার করতে পারবেন না। কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা তাদের মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তাদের নির্বাচিত অন্য কোনো ব্যক্তি প্রচারের সময়কালে কোনো নির্বাচনী এলাকায় মাইক বা শব্দের মাত্রা বর্ধনকারী অন্যবিধ যন্ত্রের ব্যবহার দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।

একজন প্রার্থী তার নির্বাচনী এজেন্ট বা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকে ফেসবুক বা অন্য যেসব প্ল্যাটফর্মে প্রচার চালাবেন সেগুলোর নাম, আইডি, ই-মেইল ঠিকানা ইত্যাদি তথ্য আগেই রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে। নির্বাচনী প্রচারে কোনোভাবেই অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করা যাবে না।

সামাজিক মাধ্যমে ঘৃণা ছড়ানো, ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো, কারও ছবি বিকৃতি করা বা ভুয়া কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, নারী, সংখ্যালঘু বা কোনো গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কোনোরকম ঘৃণামূলক, উসকানিমূলক কিংবা ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করা যাবে না। ধর্মীয় বা জাতিগত অনুভূতিকে ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা যাবে না। নির্বাচনী স্বার্থে ধর্ম বা জাতির অপব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

সামাজিক মাধ্যমে নির্বাচনসংক্রান্ত কোনো পোস্ট বা তথ্য শেয়ার করার আগে তার সত্যতা যাচাই করা বাধ্যতামূলক। গুজব, বিভ্রান্তিকর পোস্ট কিংবা যাচাই না করা তথ্য প্রচার করা যাবে না। প্রচারের ক্ষেত্রে কোনো দল, প্রার্থী বা তাদের সমর্থকরা কারও সুনাম নষ্ট বা চরিত্র হননের উদ্দেশ্যে সামাজিক মাধ্যমে কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি, সম্পাদনা, প্রচার বা শেয়ার করতে পারবেন না। এসব ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করাও নিষিদ্ধ থাকবে।

এ ছাড়া অফলাইন বা সরাসরি প্রচারের ক্ষেত্রে কোনো দল বা প্রার্থী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিদেশে জনসভা, পথসভা, সভা-সমাবেশ বা কোনো প্রচার চালাতে পারবেন না। পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না। একজন প্রার্থী তার সংসদীয় আসনে ২০টির বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন না। নির্বাচনের দিন ও প্রচারের সময় ‘কোয়াডকপ্টার’ বা এ জাতীয় যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো প্রার্থী ও প্রতিষ্ঠান ভোটার স্লিপ বিতরণ করতে পারবেন। তবে ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম, ছবি, পদের নাম ও প্রতীক উল্লেখ করতে পারবেন না। যেগুলো ডিজিটাল বিলবোর্ড, শুধু সেগুলোতে আলো ব্যবহার করা যাবে। বিদ্যুতের ব্যবহার করা যাবে। তবে আলোকসজ্জার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ব্যানার, ফেস্টুন, লিফলেটে পলিথিনের আবরণ নয়, প্লাস্টিক (পিভিসি) ব্যানার ব্যবহার করা যাবে না।

ভোটের প্রচারে ড্রোন ব্যবহার করা যাবে না। সরকারি সুবিধাভোগী অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির তালিকায় অন্তর্বর্তী বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদেরও যোগ করা হয়েছে। ফলে তারা প্রার্থীর হয়ে প্রচারে নামতে পারবেন না।

আচরণবিধি লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও দেড় লাখ টাকা জরিমানা এবং দলের জন্য দেড় লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে তদন্তসাপেক্ষে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও রয়েছে ইসির।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের প্রতিটিতে নির্বাচনী অনিয়ম অনুসন্ধান ও অপরাধের সংক্ষিপ্ত বিচারের জন্য ‘নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি’ গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন। এ ছাড়া পর্যাপ্তসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে নামানো হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com