

রাজধানীর ঢাকা-১৫ আসন বরাবরই নির্বাচনী দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এখানে উত্তাপ চরমে। গলির মোড়, চায়ের দোকান, লিফলেট ও পোস্টার- সব কিছুতেই এখন নির্বাচনী হাওয়া। অন্যতম বড় দুই রাজনৈতিক দল মুখোমুখি, ভোটারদের মধ্যে পরিবর্তনের আশা ও অনিশ্চয়তা মিলিয়ে লড়াই এবারে হাড্ডাহাড্ডি হবে বলে মনে করছেন সক্রিয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। ঢাকা-১৫ উত্তর সিটি করপোরেশনের কয়েকটি ওয়ার্ডের সংমিশ্রণে গঠিত। এখানে মধ্যবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত, শ্রমজীবী, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবী মিলিয়ে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার। পুরুষ ভোটার সামান্য বেশি হলেও নারী ও তরুণ ভোটারের সংখ্যা অনেক। তরুণ ভোটারদের মধ্যে অনেকে এবার প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন।
এবারের নির্বাচনে চিহ্নিত প্রার্থীরা হলেন- জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) ও বিএনপি মনোনীত শফিকুল ইসলাম মিল্টন (ধানের শীষ প্রতীক)। দুই পক্ষের স্থানীয় সংগঠন সক্রিয়, মাঠে রয়েছে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী। অন্য প্রার্থীরা থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা দুই প্রার্থীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ভোটারদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। মিরপুরের আবদুল হালিম বলেন, অনেক বছর শুধু কথা শুনছি। এবার এমন কাউকে ভোট দিতে চাই, যিনি এলাকার সমস্যাগুলো বুঝবেন। একই এলাকার গৃহিণী রোকেয়া বেগম বলেন, নারী ভোটারদের কথা কেউ খুব শোনে না। পানি, গ্যাস, নিরাপত্তা আমাদের জন্য সবচেয়ে জরুরি। যুব ভোটারদের মধ্যেও রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
কলেজপড়ুয়া সাদিয়া ইসলাম বলেন, ‘আগে ভোট দিতে আগ্রহ ছিল না, এবার মনে হচ্ছে না দিলে অন্যরা সিদ্ধান্ত নেবে।’ চাকরিজীবী রাশেদ মাহমুদ যোগ করেন, ‘যেই জিতুক, কাজ করতে হবে। শুধু দল নয়, ব্যক্তিগত যোগ্যতাও দেখব।’ ঢাকা-১৫-এর প্রধান সমস্যাগুলো হলো- জলাবদ্ধতা, যানজট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, গ্যাস-পানির সংকট ও কর্মসংস্থানের অভাব। প্রার্থীরা এসব ইস্যু নির্বাচনী প্রচারণায় তুললেও ভোটারদের বড় অংশ এখনও প্রতিশ্রুতিতে সন্দিহান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এখানে ফল নির্ভর করবে ভোটার উপস্থিতি ও শেষ মুহূর্তের কৌশলের ওপর। অতীতে কম ভোট পড়ায় ফলাফলে বড় প্রভাব পড়েছে। এবার নারী ও তরুণ ভোটারের উপস্থিতি বাড়লে ফলাফলে চমক আসতে পারে। সব মিলিয়ে ঢাকা-১৫ এবার একতরফা নয়। শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সমানতালে প্রচারণা ও ভোটারদের দ্বিধা- সব মিলিয়ে এটি রাজধানীর অন্যতম হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, জয়-পরাজয় নির্ধারণ হবে ভোটের দিন।