

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ হিসেবে পরিচিত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ তৃতীয় দিনের মতো রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হবে। এই মামলায় মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আদালত সূত্র জানিয়েছে, আজ প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে মামলার অবশিষ্ট যুক্তি, উপস্থাপিত সাক্ষ্যপ্রমাণের বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট আইনি দিকগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে।
এর আগে, গত ২২ জানুয়ারি দিনব্যাপী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। সে দিন তিনি ট্রাইব্যুনালের সামনে মামলার সাক্ষীদের জবানবন্দি, তদন্ত কর্মকর্তার জব্দ করা আলামত ও বিভিন্ন নথিপত্র উপস্থাপন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি ছিল, এসব সাক্ষ্যপ্রমাণে আসামিদের ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। ওই দিনের শুনানি শেষে আদালত আজ পর্যন্ত কার্যক্রম মুলতবি করেন।
গত ২১ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্কের মধ্য দিয়ে মামলার এই পর্যায় শুরু হয়। টানা তিন দিনের এই পর্ব শেষ হলে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন। এরপর মামলাটি রায়ের পর্যায়ে যাবে বলে জানা গেছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৪ জানুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিনের জেরা সম্পন্ন হয়েছে। এ মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে মোট ২৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। ৩০ আসামির মধ্যে বর্তমানে ৬ জন গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন—এএসআই আমির হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ।
অন্যদিকে বেরোবির তৎকালীন উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ বাকি ২৪ আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন। পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত চারজন আইনজীবী আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৭ আগস্ট প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। এর আগে ৬ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মামলার ৩০ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে। তদন্ত সংস্থা ২৪ জুন চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় এবং ৩০ জুন আদালত তা আমলে নেয়।