

ব্যাডমিন্টনে একচেটিয়া আধিপত্য ছিল। গ্রিনল্যান্ডের হয়ে জিতেছেন অসংখ্য পদক। খেলার মাঠের লড়াকু মানসিকতা আন্তর্জাতিক রাজনীতির ময়দানেও কাজে লাগবে, তা কে জানত! তিনি জেনস-ফ্রেডেরিক নিলসেন, গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো বিশ্বনেতাকে কড়া ভাষায় জবাব দিয়ে তিনি এখন কেবল নিজ দেশেই নয়, গোটা ইউরোপেই প্রশংসিত।
৩৪ বছর বয়সী নিলসেন গত বছর এপ্রিলে অপ্রত্যাশিত জয়ে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হন। তখন থেকেই ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড ‘কিনে নেওয়ার’ ইচ্ছা প্রকাশ করে আসছিলেন। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে আটকের পর ট্রাম্পের সেই ইচ্ছা যখন সামরিক আগ্রাসনের হুমকিতে রূপ নেয়, তখন বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। কিন্তু বিন্দুমাত্র বিচলিত হননি নিলসেন।
জানুয়ারিতে ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে এক বৈঠকের ঠিক আগে নিলসেন দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘যদি আমাদের যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে কাউকে বেছে নিতে হয়, তবে আমরা ডেনমার্ক, ন্যাটো ও ইইউকেই বেছে নেব।’ তার এই সাহসী অবস্থান গ্রিনল্যান্ডবাসীর মনে সাহস জুগিয়েছে। প্রবীণ রাজনীতিবিদ আক্কালুক লিঙ্গে বলেন, ‘এই বয়সে এমন দৃঢ়তা আমি দেখাতে পারতাম কিনা সন্দেহ।’
নিলসেনের জন্ম গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুকে। মা গ্রিনল্যান্ডিক আর বাবা ডেনিশ। দুই সংস্কৃতির মিশেলে বেড়ে ওঠা নিলসেন ছোটবেলায় ডেনিশ চেহারার জন্য বুলিংয়ের শিকার হলেও আজ তিনি দুই দেশের সম্পর্কের সেতুবন্ধ। তার পরনে গ্রিনল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী পোশাক নীল অ্যানোরাক এখন বিশ্বমঞ্চে এক পরিচিত দৃশ্য। দ্য গার্ডিয়ান।