মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:০৪ অপরাহ্ন

তফসিলের পর ৭২ হাজার ৩৭০ জন গ্রেপ্তার

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১ বার

দরজায় কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সারা দেশে জোরেশোরে চলছে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্বাচনী প্রস্তুতিও শেষ পর্যায়ে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চলছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর বিশেষ অভিযান। এই অভিযানে গত বছর ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার পরের দিন ১২ ডিসেম্বর থেকে ১ ফেব্রুয়ারি

পর্যন্ত ৫১ দিনে সারা দেশে ৭২ হাজার ৩৭০ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। একই সময়ে সারা দেশে ২৭৪টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ৮৯টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। একই সময়ে পাঁচটি রাজনৈতিক হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সারা দেশেই চলছে পুলিশ, র‌্যাবসহ যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযান। সুষ্ঠু ভোটের ক্ষেত্রে হুমকি হতে পারেÑ এমন ব্যক্তিদের এই অভিযানের লক্ষ্য করা হচ্ছে। চিহ্নিত সন্ত্রাসী, অবৈধ অস্ত্রধারী, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের আইনের আওতায় আনতে সব জেলার পুলিশ সুপার এবং মহানগর পুলিশ কমিশনারকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। যেসব এলাকায় সহিংস আচরণের ঘটনা বেশি ঘটছে সেসব এলাকায় পুলিশের নজরদারি এবং উপস্থিতি বাড়াতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভোটের জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশেষ অভিযান ও সন্দেহজনক যানবাহনে তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করেছে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনী। এ ছাড়া ভোটের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ আসনগুলোয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শক্তি বাড়ানো হচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার পর ১২ ডিসেম্বর থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৫১ দিনে সারাদেশে ৭২ হাজার ৩৭০ জন গ্রেপ্তার হয়। এর মধ্যে অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২ অভিযানে ২৪ হাজার ৩৩৩ জন এবং মামলা ও ওয়ারেন্টমূলে ৪৮ হাজার ৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে সারা দেশে ১১ লাখ ৩ হাজার ২২১টি চেকপোস্টে ১৭ লাখ ২৭ হাজার ৪৩৪টি গাড়ি এবং ১৫ লাখ ৯৩ হাজার ৩৮৪টি মোটরসাইকেল তল্লাশি করা হয়। এ ছাড়া ২৩ হাজার ১৭টি মোটরসাইকেল আটক এবং ২৭ হাজার ৩৬৫টি মামলা করা হয়। একই সময়ে ৬২১টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন আমাদের সময়কে বলেন, ভোটের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং অবৈধ অস্ত্রধারী ও সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার অভিযান আগের তুলনায় আরও জোরদার করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, তফসিল ঘোষণার পর থেকে যে ২৭৪টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, এর মধ্যে প্রার্থীর ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে ১৫টি এবং রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড পাঁচটি। এ ছাড়া নির্বাচন ঘিরে ভীতি দেখানো বা আক্রমণাত্মক আচরণের ঘটনা ঘটেছে ১৬টি, প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে ৮৯টি এবং অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারের ঘটনা তিনটি, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ৯টি, প্রচারকাজে বাধা দেওয়ার ঘটনা ২৯টি, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অফিস ও প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ২০টি, অবরোধ ও বিক্ষোভের ঘটনা ১৭টি, সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণের ঘটনা একটি এবং অন্যান্য ঘটনা ঘটেছে ৭০টি।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং বিগত দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে হওয়া সহিংসতার ঘটনার পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেছে, ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক মাসে (২১ ডিসেম্বর ২০২৩- ১০ জানুয়ারি ২০২৪) ৫৩৪টি সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় আহত হন ৪৬০ জন এবং নিহত হন ছয়জন। তখন ভাঙচুরের ঘটনা ১০২টি, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ১১৮টি, ককটেল ও পেট্রোল বোমা বিস্ফোরণ এবং গুলির ঘটনা ঘটে ৩০টি। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২২ দিনে (১০ ডিসেম্বর ২০১৮-২ জানুয়ারি ২০১৯) ৪১৪টি সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় আহত হন ৭৮০ জন এবং নিহত হন ২২ জন। তখন ভাঙচুরের ঘটনা ২৩৪টি, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ১৫৫টি, ককটেল ও পেট্রোল বোমা বিস্ফোরণ এবং গুলির ঘটনা ঘটে ১৪৩টি। এ ছাড়া ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ১২ দিনে (২২ ডিসেম্বর ২০১৩-৪ জানুয়ারি ২০১৪) ৫৩০টি সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় আহত হন ৩১৫ জন এবং নিহত হন ১১৫ জন।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেন, গত ১২ ডিসেম্বর থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিশেষ অভিযানে যে ৭২ হাজার ৩৭০ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন, এর মধ্যে একটি বড় অংশই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। এ ছাড়া অবৈধ অস্ত্রধারী, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারী, অপহরণকারী, মাদক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণির অপরাধী রয়েছে।

পুলিশের হিসাব অনুযায়ী এ পর্যন্ত ৫১টি সংসদীয় আসনে নির্বাচনী সহিংসতা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জেলার ১৩টি আসনকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আসনগুলো হলো পাবনা-১ ও ৩, খুলনা-৫, পটুয়াখালী-৩, বরিশাল-৫, টাঙ্গাইল-৪, শেরপুর-৩, ঢাকা-৮, ঢাকা-১৫, ঢাকা-৭, কুমিল্লা-৪, নোয়াখালী-৬ এবং চট্টগ্রাম-১৫। এসব আসনে ভোটের জন্য নির্বিঘ্ন পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর ও মাদারীপুর জেলার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের একজন অতিরিক্ত আইজি গতকাল আমাদের সময়কে বলেন, ওই চার জেলা কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত। তাদের কাছে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, ওই চার জেলায় ভোটের সময় বড় ধরনের গোলযোগ হতে পারে। যে কারণে সেখানে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর শক্তি এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া সুষ্ঠু ভোটের জন্য যারা হুমকি, তাদের ধরতে বিশেষ অভিযান চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com