

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তাল হয়ে উঠেছে বরিশালের রাজপথ। আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বরিশালের ঐতিহাসিক বেলস পার্ক মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেন বিএনপি চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান। বক্তব্যে তিনি গত ১৬ বছরের হারানো অধিকার পুনরুদ্ধার এবং নতুন এক ‘জালেম’ শক্তির উত্থানের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সতর্ক করেন।
বক্তব্যের শুরুতে তারেক রহমান জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। মঞ্চের সামনে বসা শহীদ পরিবারের সদস্যদের দেখিয়ে তিনি বলেন, এই মানুষগুলো তাদের স্বজন হারিয়েছে কেন? তাদের প্রত্যাশা ছিল একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, যেখানে মানুষ নির্ভয়ে কথা বলতে পারবে এবং নিজের ভোট নিজে দিতে পারবে।
তিনি আরও যোগ করেন, বিগত ১৫ বছরের নিশিরাতের ভোট ও আর-ডামি নির্বাচনের সংস্কৃতি চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে সমূলে বিনাশ হয়েছে।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের (যাদের তিনি গুপ্ত সংগঠন হিসেবে আখ্যা দেন) কড়া সমালোচনা করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। সম্প্রতি নারীদের নিয়ে সেই দলের নেতার আপত্তিকর মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, যেই নেতা বা দলের নিজের দেশের মা-বোনদের প্রতি বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা নেই, তাদের কাছ থেকে জাতি কখনো মর্যাদাশীল আচরণ বা অগ্রগতি আশা করতে পারে না।
তিনি ইসলামের ইতিহাস থেকে উদাহরণ টেনে বলেন, হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর স্ত্রী বিবি খাদিজা (রা.) নিজেও একজন সফল ব্যবসায়ী ও কর্মজীবী নারী ছিলেন। বদরের যুদ্ধেও নারীদের বীরত্বগাথা ও সেবামূলক ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, নারীদের ঘরে বন্দি রেখে বা পেছনে ফেলে বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়।
তারেক রহমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে নারী শিক্ষার প্রসারে গৃহীত পদক্ষেপগুলো স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপিই প্রথম বাংলাদেশে নারীদের জন্য ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করেছিল। আগামী দিনেও বিএনপি ক্ষমতায় আসলে নারীদের কর্মসংস্থান ও মর্যাদা রক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশাল বিভাগের ১৩ কোটি ভোটারকে (সমগ্র বাংলাদেশসহ) কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এখন এই বাংলাদেশ জনগণের বাংলাদেশ। আগামী ১২ তারিখ আপনাদের পছন্দমতো প্রতিনিধি নির্বাচন করুন, যারা জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে।