

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দেশজুড়ে হামলা ও সহিংসতার ২১টি ঘটনার তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে দলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
ঘোষিত ফল অনুযায়ী, নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। বিএনপি ও তাদের জোটের প্রার্থীরা মোট ২১৩ আসনে জয় পেয়েছেন বলে জানানো হয়। এর মধ্যে বিএনপি এককভাবে জয়লাভ করেছে ২০৯টি আসনে।
জামায়াতের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় বিভিন্ন জেলায় হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। তালিকায় বলা হয়, কুয়েটে ভিসির ওপর ছাত্রদল কর্মীদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। দিনাজপুরে জামায়াতের এক পোলিং এজেন্টের বাবাকে মারধর ও বাড়ি পোড়ানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। পঞ্চগড়ে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া উখিয়ায় হামলায় কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে জানানো হয়। কুড়িগ্রামে ভোট নিয়ে তর্কের জেরে এক জামায়াত নেতাকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। খুলনায় এক শিক্ষার্থীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও তার পরিবারের সদস্যদের মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছে। পাটগ্রামে বাড়িতে ঢুকে লুটপাট, বরিশালে রাজনৈতিক পরিচয়ের জেরে হামলা এবং চট্টগ্রামে সাবেক শিবির নেতার বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনাও তালিকায় রয়েছে। চকরিয়ায় জামায়াত নেতার বাড়িতে দফায় দফায় হামলা, কুষ্টিয়ায় এনসিপি নেতার বাসভবনে হামলা এবং ফেনীতে জামায়াত কর্মীদের বাড়িতে আক্রমণের অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে।
তালিকায় আরও বলা হয়, সিরাজগঞ্জে জামায়াত আমিরের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, সন্দ্বীপে জামায়াত নেতাদের বাড়িতে হামলা এবং দিরাই পৌরশহরে এক জামায়াত নেতার ওপর শারীরিক আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। বাগেরহাটে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের ওপর হামলায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। গোপালগঞ্জে এক জামায়াত নেতার বাড়িতে হামলা এবং বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের যৌথ হামলায় এক শিবির কর্মী আহত হওয়ার অভিযোগও প্রকাশিত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।