

রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লার ভাড়া বাসায় ফেরার পথে ৪ পেশাদার ছিনতাইকারীর কবলে পড়েছিলেন বলে জানিয়েছেন র্যাব-১১-এর একাধিক কর্মকর্তা।
হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার অভিযানে নেতৃত্বে দেওয়া র্যাব কর্মকর্তারা সোমবার (২৭ এপ্রিল) কালবেলাকে জানান, রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লার ভাড়া বাসায় ফেরার পথে ৪ পেশাদার ছিনতাইকারীর কবলে পড়েছিলেন। পদুয়ার বাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে কিছুটা এগিয়ে নামেন তিনি। এরপর বাসস্ট্যান্ডে আসতে সিএনজিচালিত অটোরিকশাতে ওঠেন। এই অটোরিকশাতেই ছিলেন ৪ ছিনতাইকারী। সামনে চালকসহ দুজন। পেছনে দুজন।
র্যাব-১১-এর একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছিনতাইকারীদের ৪ জন সরাসরি জড়িত, বাকি একজনের কাছ থেকে বুলেটের ব্যবহৃত ব্যাগ, মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে। এই ৫ জনই রেলওয়ে ডাকাতি মামলার আসামি।
মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের উল্টো দিক চট্টগ্রামগামী সড়কের ফুটপাতে পড়ে ছিল কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর (৩৪) মরদেহ। রাস্তার এই পাশে তার যাওয়ার কথা নয়। গভীর রাতে চট্টগ্রাম থেকে ফিরে আসার বাসগুলো মূলত চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যায়, সরাসরি কুমিল্লা আসে না।
জিজ্ঞাসাবাদে ছিনতাইকারীরা জানিয়েছে, রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বাসস্ট্যান্ড পেরিয়ে বেশ কিছুটা পথ সামনে নামায় স্ট্যান্ডে ফিরতে সিএনজিচালিত অটোরিশাতে ওঠেন। চালক তাকে বলে, ‘আর একজন হলেই ছেড়ে দেব।’ এসময় তারা বুলেটকে পাশে বসায়।
ওই কর্মকর্তার ধারণা, বুলেটের চোখে ঘুম ছিল। ছিনতাইকারীদের হাতে অস্ত্র দেখে বুলেট ঘাবড়ে যান। হয়তো ধস্তাধস্তিও করেছেন।
নিখোঁজের ৭ ঘণ্টা পর শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল পৌনে ৮টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকার একটি হোটেলের পাশের ফুটপাত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশ।
ছিনতাই শেষে চলন্ত অটোরিকশা থেকে বুলেটকে ফেলে দেয় ঘাতকরা। বুলেট মহাসড়কে পড়ার সময় মাথায় আঘাত পান। এরপর সকালে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। বুলেটকে ফেলে ছিনতাইকারীরা চৌয়ারা বাজার এলাকার উলুরচর মৌজার আজিজ ম্যানশনের দিকে দিকে এগিয়ে যায়।
বুলেট বৈরাগী কুমিল্লা বিবিরবাজার স্থলবন্দর কাস্টমসে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কুমিল্লাতেই তাদের কোলজুড়ে আসে আদরের পুত্র সন্তান অব্যয় বৈরাগী। আজ ২৭ এপ্রিল তার প্রথম জন্মদিন।